মুমিনের সৌন্দর্য- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ২৪ ঘন্টা- মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
জীবনের প্রতিটি ক্ষণে আমরা সবাই কোন না কোন ভাবে ব্যস্ত থাকি। যেমন ব্যবসায়ী রা ব্যবসার কাজে, চাকরীজীবি চাকরীর কাজে তেমনি কৃষক কৃষি কাজে, ডাক্তার চিকিৎসা সেবায়, আইনজীবী আইন পেশায়, গৃহিণী গৃহের কাজে। এভাবেই প্রতিটি পেশায় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের জীবন চক্র চলছে। কোন ভাবেই আমাদের জীবনের ঘড়ির কাটা থেমে নেই।
এর মধ্যে আমাদের খাওয়া- দাওয়া, সন্তান লালন- পালন, কেউবা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করছে, কেউবা দুনিয়াবি কথাবার্তা, গল্প গুজব, ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত। অন্যদিকে অনেক মুসলিম আছেন যারা কেবলমাত্র শুক্রবারে মসজিদে হাজিরা দিয়ে থাকেন অথবা মাঝে মাঝে নামাজ আদায় করে থাকেন। উনারা ও অবসর সময়ে গল্প- গুজব, অহেতুক কথা বার্তার মাধ্যমে সময় অপচয় করে থাকেন বা এই অবসর সময়ে ভালো কোন কাজ বা জ্ঞান অর্জন, বা ইবাদত করা ইত্যাদি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা আমাদের/তাদের কারোই জানা নেই। যার কারণে আমরা বিনা প্রয়োজনে সময় অপচয় করি।
ফলে আমাদের মাথায় বিভিন্ন ধরণের কু-চিন্তা, কু-বুদ্ধি ইত্যাদি নিয়ে শয়তান হাজির হয়। সেজন্যই বলা হয়ে থাকে- Empty mind is devil workshop. কারণ ফাকা মাথা মানেই অস্বাভাবিক কিছু ঘটা, চিন্তা করা। আর এই অস্বাভাবিক চিন্তা- ভাবনা ধীরে ধীরে শুধু একটা মানুষ না বরং একটা জাতিকেই ধ্বংসের পথে খুব সহজে নিয়ে যায়। কারণ একটা মানুষকে ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত করার জন্য আরেক টা মানুষের কখনোই প্রয়োজন পড়েনা। ব্যক্তি নিজেই সেখানে যথেষ্ট। আমাদের ঘরের জিনিস পত্র যেমন প্রতিদিন পরিস্কার করতে হয় নাহয় ধুলো জমে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী থাকেনা ঠিক তেমনি আমাদের মন-আত্নাকে ও প্রতিনিয়ত পরিস্কার করতে হয় শয়তানের ওয়াস- ওয়াসা থেকে বাঁচতে।
কারণ আমাদের মন যখন খালি থাকে তখন সেখানে শয়তান বাসা বাঁধে খুবই মজবুত করে এবং একটা জাতিকে খারাপ চিন্তা বা খারাপ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিপথে পরিচালিত করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে ক্ষতির সম্মুখীন করে প্রতিনিয়ত। আর এই গ্লুবালাইজেশনের যুগে তা আরও বেশি সহজ হয়ে গিয়েছে। সে কারণেই রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “কল্ব পরিস্কার করো। সেখানে শয়তান ঘাপটি মেরে বসে মানুষকে কু- মন্ত্রনা দেয়। যে ব্যক্তি কল্ব পরিস্কার করবে আল্লাহ তায়ালা তার অপরাধ গুলো নেক আমলের দ্বারা মুছে দিবেন। আর তা হচ্ছে জিকির উচ্চারণের উৎস স্থল।”
হ্যাঁ, মহান আল্লাহ আমাদের সবকিছুই বলে দিয়েছেন তার পবিত্র কোরআনে। কিন্তু আমরা রিলিজিয়াসলি তা পালনে অপারগ। আমরা যদি নিয়মিত অল্প অল্প করে রাসুল (সাঃ) এর দৈনিক ইবাদত গুলো পালনের চেষ্টা করি তাহলে আমার মনে হয়না এই চেষ্টা’র ফল কখনো বৃথা যাবে। কারণ কোন কিছু চর্চা তে না থাকলে তাতে ঘুন ধরে সহজে।
এই বইটি আমি উদ্দেশ্যহীন ভাবে নিয়েছি। জানিনা কেন। তবে পড়ে ভালই লেগেছে এবং মনে হয়েছে সবার পড়া উচিত। কারণ সবকিছুই আমাদের চর্চায় রাখতে হয় সেটা খাদ্যভ্যাস শুরু করে জাগতিক পড়াশোনা, একে অন্যের প্রতি টান, মমতা, ভালোবাসা একদম সবকিছু। কিন্তু অনেকের আবার কর্মময় জীবনে সময় স্বল্পতার জন্য বাজারে গিয়ে বই কিনে এনে পড়া সে সময়টুকু হয়ে উঠেনা। তাদের উদ্দেশ্য করে এবং বিশেষ করে আমার নিজের জন্য একটা দৈনিক সিলেবাস/ কন্টেন্ট হিসেবে লিখে রাখলাম। যাতে করে সবকিছু গুছিয়ে থাকে এবং আমার চর্চা করতে সুবিধা হয়। আশা করছি আমি আমরা সবাই কিছুটা হলেও লাভবান হবো, ইনশাআল্লাহ।
বইটা মূলত দিনের পাঁচ ওয়াক্ত সালাত টাইম হিসেবে সাজানো হয়েছে নিম্নরূপ আকারে-
০১। শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠা হতে সূর্যদয়ের পর আমল
ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবার ১ ঘন্টা আগে ঘুম থেকে উঠা।
ঘুম থেকে উঠে- ঘুম থেকে উঠার দোয়া “ আলহামদুলিল্লাহিল লাজি আহইয়ানা বাদামা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।”
ঘুম থেকে উঠে তিনবার হাত ধুয়া। রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “ তোমাদের কেউ রাতে ঘুম থেকে যখন জেগে উঠবে তখন তিনবার হাত না ধুয়ে কোন পাত্রে হাত দিবেনা। কেননা, সে জানে না ঘুমন্ত অবস্থায় তার হাত কোথায় ছিল।”
ইস্তিঞ্জার ( বাথরুম সারা) পূর্বে জিকির- রাসুল (সাঃ) ইস্তিঞ্জা এর জন্য গমন করলে এই দোয়াটি পড়তেন- “বিসমিল্লাহ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল সাবাইস।”
ইস্তিঞ্জা থেকে বের হয়ে পড়ার দোয়া- “গোঁফরা নাকা।”
তাহিয়্যাতুল ওযুর দু রাকাত নামাজ- বলা হয়েছে যে, এই নামাজ ব্যক্তি আদায় করবে তার সকল গুনাহ এমন ভাবে ক্ষমা করা হয় যে, সে নবজাত শিশুর মত নিষ্পাপ হয়ে যায়।
তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা
তাহাজ্জুদের পর থেকে ফজরের নামাজের আগ পর্যন্ত আমল- কোরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, তাহমিদ, তাওবা, ইস্তিগফার, দরুদ শরীফ, জিকির ও মোনাজাতে সময় কাটানো।
ফজরের আজান হলে আজানের উত্তর দেওয়া
আজান শেষে নিজের জন্য দোয়া চাওয়া- কারণ আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফেরত দেয়া হয়না।
ফজরের দু রাকাত সুন্নাত আদায় করা তারপর মসজিদে যাওয়া। যদি ও রাসুল (সাঃ) মসজিদেও সুন্নাত পড়তেন সুতরাং যখন যেখানে সুবিধা সেখানে সুন্নাত আদায় করা। কারণ রাসুল (সাঃ) নিজেই সুন্নাত নামাজ সমূহকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন।
বাসা থেকে বের হবার সময়ের দোয়া- “বিসমিল্লাহি তাওক্কালতু আলাল্লাহি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।”
রাসুল (সাঃ) নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার সময়, তাহাজ্জুদের সিজদারত অবস্থায়, তাহাজ্জুদ সালাতের পর এবং অন্যান্য সময়ে নিচের দোয়া গুলো পড়তেন- “ আল্লাহুম্মাজ আল ফী কাল্বি নুরান, ওয়াফি লিসানি নুরান, ওয়াফি বাসারি নুরান, ওয়াফি সাময়ি নুরান, ওয়া আন ইয়ামিনি নুরান, ওয়া আন ইয়াসিরি নুরান, ওয়া ফাওকি নুরান, ওয়া তাহতি নুরান, ওয়া আমামি নুরান, ওয়া খালফি নুরান, ওয়াফি আসাবি নুরান, ওয়াফি লাহমি নুরান, ওয়াফি দামী নুরান, ওয়াফি শাঅরি নুরান, ওয়াফি বাশারি নুরান, ওয়াজ আলফী নাফসি নুরান, ওয়া আজিম লি নুরান, ওয়া আয়জিম লি নুরান, ওয়াজ আল লি নুরান, ওয়াজ আলনি নুরান। আল্লাহুম্মা আত্তিনি নুরান।”
মসজিদে প্রবেশের দোয়া- “বিসমিল্লাহ্ হি ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ। আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।”
দুখুলুল বা তাহিয়াতুল মাসজিদের নামাজ- ফজরের নামাজের জন্য জামায়াত শুরু না হলে দু রাকাত নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং রাসুল (সাঃ) নিজে।
এরপর জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করা। জামায়াতে অনুপস্থিত থাকা কে রাসুল ও সাহাবীগণ নিশ্চিত মুনাফেকের আলামত বলতেন। এক সময় রাসুল (সাঃ) এর কাছে এক অন্ধ ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলেন “আমাকে মসজিদে নিয়ে আসার মতো কেউ নেই তাছাড়া পথ ও খারাপ। আমি কি জামায়াতে না এসে ঘরে সালাত আদায় করতে পারবো”? তখন রাসুল (সাঃ) সেই অন্ধ ব্যক্তি কেও জামায়াত ত্যাগের অনুমতি দেননি। তখন রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “আজান শুনলে হামাগুড়ি দিয়ে বা বুকে হেঁচড়ে হলেও মসজিদে এসে তোমাকে জামায়াতের সহিত সালাত আদায় করতে হবে।” বরং যারা সালাতের জন্য জামায়াতে শরিক হতেন না তাদের ঘর পুড়িয়ে দিতে চেয়েছেন তিনি।
ফজরের পরে সূর্যদয় পর্যন্ত বসে থাকা
রাসুল (সাঃ) যখন ফজরের সালাত আদায় করার জন্য যে স্থান টিতে বসতেন ফজরের ওয়াক্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সে স্থান থেকে উঠতেন না। তিনি বলেন, “ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করার পড়ে সালাতের ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত তার বসার স্থানে বসে থাকবে সে একটি মকবুল হজ্ব ও একটি মকবুল উমরার সাওয়াব অর্জন করবে।”
ফজরের নামাজের পরে পালনীয় জিকির
ক্ষমা প্রার্থনা করা- তিনবার ইস্তিগফার
শান্তি, মর্যাদা ও বরকতের দোয়া- ১ বার। দোয়াটি হল- “ আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু তাবা রাকতা ইয়া জালজালালি ওয়াল ইকরাম।”
জান্নাত লাভের জন্য আয়াতুল কুরসি ১ বার। রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “ যে ব্যক্তি প্রত্যেক সালাতের পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে তার জান্নাতে প্রবেশের পথে আর কোন বাধা থাকবেনা।”
নিরাশ, ক্ষতিগ্রস্ত, ও বঞ্চিত না হওয়ার জন্য প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে সুবাহানাল্লাহ- ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ্- ৩৩ বার, এবং আল্লাহু আকবর- ৩৪ বার পড়া।
সূরা ইখলাস, ফালাক এবং নাস ১ বার করে পড়া
শয়তান ও তার কুমন্ত্রণা থেকে দূরে থাকার দোয়া- আউজুবিল্লাহ পড়া, আজান দেওয়া, মাসনুন দোয়া ও কোরআন পাঠ করা।
কুফরি, দারিদ্র ও কবরের আজাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনার জন্য- “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি ওয়া আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি।”
ক্রোধ দমনের জন্য দোয়া- “আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তয়ানির রাজিম।”
শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার দোয়া- “ রাব্বি কিনি আজা- বাকা ইয়াওমা তাবআসু ইবাদাকা।”
আল্লাহর গুণ, প্রশংসা জ্ঞাপনের জিকির- “ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মূলক, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। আল্লাহুম্মা লামানিয়া লিমা আ অতাইতা, ওয়াল মু আতিয়া লিমা মানা-অতা, ওয়ালা ইয়ানফাউ জাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।”
জিকির, শুকুর ও ইবাদত করার দোয়া- “ আল্লাহুম্মা আ-ইন্নি আলা জিকরিকা ওয়া শুকরিয়া ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।” (১ বার)
কৃপণতা, কাপুরুষতা, অপমানকর বার্ধক্য ও ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা’র দোয়া- “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বুখলি ওয়া আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়া আউজুবিকা আন উরাদ্দা ইলা আর জালিল উমরি ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনইয়া ওয়া আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি।” (১বার)
জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির দোয়া- 'আল্লাহুম্মা আঝিরনি মিনান নার।' (৭ বার)
অল্প আমলে বেশি সওয়াব পাওয়ার জিকির- “ সুবাহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি আদাদা খালকিহি ওয়ারিদা নাফসিহি ওয়া জিনাতা আরশিহি ওয়া মিদাদা কালিমা তিহি।” (৩বার)
ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোয়া- “ আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলা হা ইল্লা আন্তা খালাকতানি ওয়া আনা আব্দুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়াওয়া অদিকা মাসতা তাঅতু। আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া, ওয়াআবুউ লাকা বিজাম্বি ফাগফিরলি ফা ইন্নাহ লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।” (১ বার)
যে দোয়া পাঠের মাধ্যমে নবী কারিম (সঃ) এর হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে- “রাদিতু বিল্লাহি রাব্বান ওয়াবিল ইসলামি দিনান ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়ান।” ( ৩ বার)
দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা অ সমস্যা থেকে মুক্তির দোয়া- “ হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আলাইহি তাওয়াককালতু ওয়াহুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।” (৭ বার)
ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার দোয়া- “বিস্মিল্লাহিল লাজি লা ইয়াদুররু মাআ ইসমিহি শাইউল ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামা ই ওয়াহুয়াস সামিউল আলীম।” ( ৩ বার)
আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার দোয়া- “ ইয়া হাইউ ইয়াকাউমু বিরাহমাতিকা আস্তাগিসু আসলিহ লি শানি কুল্লাহু ওয়ালা তাকিলনি ইলা নাফসি তারফাতা আইন।” ( ১ বার)
সকল কল্যাণ লাভের দোয়া- “আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফি দ্বীনি ওয়া দুনইয়াইয়া, ওয়া আহলি ওয়া মা-লি। আল্লাহুম্মাস তুর আউরাতি ওয়া আ-মিন রাউআতি। আল্লাহুম্মাহ ফাজনি মিম বাইনি ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খালফি, ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়া আন শিমালি, ওয়া মিন ফাউকি। ওয়া আউজুু বিআজামাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহতি।” (১ বার)
সুস্থ্যতা ও নিরাপত্তা চেয়ে দোয়া- “আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাময়ি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাসারি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি, ওয়াল ফাকরি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।” (৩ বার)
সর্বশ্রেষ্ঠ আমলকারি হবার জিকির- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহ্দাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু, ইউহয়ি ওয়া ইউমিতু অহুয়া ‘আলা কুল্লি শায়ইন ক্বাদীর।” ( ১০ বার)
সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাপের জিকির- “সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।” ( সকাল- সন্ধ্যায়- ১০০ বার করে)
সকালে সূর্যদয়ের আগে ও বিকালে সূর্যাস্তের আগে ৪ টি তাসবিহ- “সুবাহানাল্লাহ”, “আলহামদুলিল্লাহ্”, “ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু”, “আল্লাহু আকবর।” ( প্রতিটি ১০০ বার করে মোট ৪০০ বার)
জ্ঞান, কর্ম ও রিজিক প্রার্থনা- “আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালান ওয়া রিযকান তায়্যি্বান।” (১ বার)
কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ- সালাম, দোয়া ইস্তিগফার
রাসুল (সঃ) এর ৩ টি উপদেশ- ১। ঘুমানোর আগে বিতর এর সালাত আদায় করা, ২। দু রাকাত দোহার বা চাশতের সালাত পরিত্যাগ না করা এবং ৩। প্রতি মাসে তিনদিন সিয়াম পালন করা।
মসজিদ থেকে বের হবার দোয়া- “বিস্মিল্লা-হি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ, আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদ্বলিকা।”
বাড়ি প্রবেশের দোয়া- “ আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুক খইরাল মাউলাজি, ওয়া খইরাল মাখরাজি, বিসমিল্লাহি ওয়ালাজনা, ওয়া বিসমিল্লাহি খরাজনা, ওয়া আলাল্লাহি রব্বিনা তাওয়াক্কালনা।” এর সাথে বাড়ির সবাইকে সালাম দেওয়া।
০২। সকল কর্ম ব্যস্ততার সময়কার আমল
সকল ব্যস্ততার মাঝেও বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা
সুবাহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ্, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবর এই ৪ টি তাসবিহ পাঠ করতে থাকা
লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ
রাব্বিগ ফিরলি ওয়া তু আলাইয়া ইন্নাকা আন্তাত তাওয়া বুল গাফুর
আল্লাহুম্মাগ ফিরলি ওয়ার হাম্নি ওয়াহদিনি ওয়া আফিনি ওয়ার জুকনি
আস্তাগ ফিরুল্লাহাল লাজি লা ইলাহা ইল্লাহু আল হাইউল কাইউম ওয়া তুবু ইলাহি
ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া এবং অনুমতি গ্রহণ করা
কারো ঘরে দৃষ্টি না দেওয়া
হাঁচি এলে করণীয়- আলহামদুলিল্লাহ বলা। এই আলহামদুলিল্লাহ্ বলতে কেউ শুনা শ্রোতা ব্যক্তি বলবেন- ইয়ারহামুকুল্লাহ। আর হাঁচি দাতাকে কেউ ইয়ারহামুকুল্লাহ বললে তিনি বলবেন- ইয়াহদিকুম-ইল্লাহ ওয়া ইউসলিহু বালাকুম।
মাহফিল, মজলিস, বৈঠক, আড্ডা, আলোচনা সভা থেকে উঠার আগে- “সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লা আনতা আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইক।” পাঠ করা
যে কোন কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা
খাদ্য সামনে উপস্থিত হলে- আল্লাাহুম্মা বারিকলানা ফিমা রাজাকতানা ওয়াকিনা আজাবান্নার।
খাবারের পরের দোয়া- আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আতআমানা, ওয়াসাকানা, অজাআলানা মিনাল মুসলিমিন
খাবার শেষে দস্তরখান উঠানোর সময় দোয়া- আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাছিরান ত্বাইয়্যিবান মুবা-রাকান ফিহ গায়রা মাকফিয়্যিন ওয়ালা মুওয়াদ্দাইন অলা মুস্তাগনান আনহু রাব্বানা।
দুধ পান করার সময় দোয়া- আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিহি ওয়াজিদনা মিনহু
কোন প্রকার পাপ কাজ হয়ে গেলে- অজু করে দু রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া
০৩। জোহরের নামাজ হতে মাগরিবের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত আমল
জোহর ও আসরের সালাত মসজিদে আদায় করা
মসজিদে ঢুকে প্রথমে দু রাকাত দুখুলুল মাসজিদের নামাজ আদায় করা অথবা সম্ভব হলে বাসা থেকে সুন্নাত পড়ে আসা
নামাজের স্থানে বসে জামাআতের পূর্ব পর্যন্ত- দরূদ শরীফ, জিকির, দোয়া- মোনাজাত ইত্যাদি করা
দ্রুত মসজিদ ত্যাগ না করা। বরং- কিছুক্ষণ তাসবিহ- তাহলিল, দরূদ শরীফ পড়া
ফজরের নামাজের পরের জিকিরের ন্যায় জোহরের নামাজের পরে জিকির করা (একই জিকির)
আসরের নামাজের পরে পালনীয় জিকির-
রাসুল (সঃ) বলেন- “আসরের সালাতের পরে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে রত কিছু মানুষের সাথে বসে থাকা আমার কাছে চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করার চেয়েও বেশি প্রিয়।”
০৪। মাগরিবের নামাজ হতে ইশার সালাতের পূর্ব পর্যন্ত আমল
জামাআতের সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করা
মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী নফল নামাজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং রাসুল (সঃ) এই সময়ে বেশি বেশি নফল ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন
তাছাড়া সকাল-দুপুরের- আসরের ন্যায় মাগরিবের পরেও একই জিকির করা
সাপ- বিচ্ছুর ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষার জিকির- “ আউজু বিকালিমা তিল্লাহিত মিন শাররি মা খাল্কা।”
সন্ধ্যার আদব- রাসুল (সঃ) বলেছেন- “সন্ধ্যা হলে বাচ্চাদের ঘরের বাইরে যেতে দিওনা। কারণ সে সময় শয়তান বিচরণ করে বেড়ায়।
বিসমিল্লাহ বলে ঘরের দরজা বন্ধ করা
০৫। ইশার নামাজ হতে ঘুমানোর পূর্ব পর্যন্ত আমল
ইশার নামাজ জামাআতের সহিত পালনের গুরুত্ব সর্বাধিক
ইশার নামাজের পর পালনীয় জিকির- পূর্ব ৪ ওয়াক্ত নামাজের পরের জিকিরের ন্যায়
রাসুল (সঃ) বিতরের নামাজ শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সাথে পড়তেন
বিতর সালাত শেষে ৩ বার- “সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস।” বলা
মুমিনের নফল ইবাদতের মূল সময় রাত। তাই অন্তত ১০ আয়াত হলেও কোরআন তেলাওয়াত করা
অজু অবস্থায় ঘুমানো
সূরা- ইখলাস, ফালাক, ও নাস ৩ বার করে পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে সর্বত্র বুলানো
বিছানা ঝেড়ে শোয়া এবং “ বিসমিকা রাব্বি ওযাদাতু জানবি ওয়াবিকা আরফাউহু। ইন আমছাকতা নাফসি ফারহামহা। ওয়া ইন আর সালতা হা-ফাহ ফাজহা বিমা তাহফাজু বিহি ইবা দাকাস সালেহিন।” এই দোয়া টি পড়া
ডান হাত গালের নিচে রাখা এবং নিম্নোক্ত দোয়াটি ৩ বার বলা- “ আল্লাহুম্মা কিনি আজাবাকা ইয়াওমা তাবআছু ইবাদাকা।”
বিছানায় শয়নকালে ঘুমের জন্য দোয়া- “বিসমিকা রাব্বি ওয়াদা আতু জানবি ফাগফিরলি জাম্বি।”
রাতে হঠাত ঘুমা ভেঙ্ঘে গেলে- “ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদির, ওয়া সুবহা নাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা ক্যুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ।”
কেউ যদি রাতে ঘুমের মধ্যে অপছন্দনিয় কিছু স্বপ্ন দেখে তাহলে- “ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল ওয়া হিদুল কাহহার, রাব্বুস সাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়ামা বাইনা হুমাল আজিজুল গাফফার।”
মহান আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তায়ালা আমাদের সকলের দোয়া কবুল এবং মঙ্গল করুন, আমীন।


