বুক রিভিউঃ মহীয়সী মারইয়াম (আঃ) এর জীবন ও গল্প, ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি
লেখক পরিচিতি
ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি বেনগাজিতে ১৯৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন মুসলিম ইতিহাসবিদ, ধর্মীয় পণ্ডিত এবং ইসলামপন্থী লিবিয়ার রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৯০ এর দশকে সৌদি আরব ও সুদানে ইসলাম অধ্যয়ন করেন। তারপরে তিনি ইউসুফ কারযাভীর অধীনে কাতারে পড়াশোনা করেন এবং ২০১১ সালে লিবিয়ায় ফিরে আসেন। তিনি মূলত তুর্কি বংশোদ্ভূত পরিবারের সদস্য।
মারইয়াম (আঃ) এর জীবন ও গল্প
ইমরানের পরিচয়
বনি ইসরাইলে দুজন ব্যক্তি ছিলেন। যাদের উভয়ের নামই ইমরান। তবে তাদের জীবনকালের মাঝে রয়েছে দীর্ঘ সময়ের পার্থক্য। এদের প্রথম ইমরান ছিলেন নবি মুসা ও হারুন (আঃ) এর পিতা আর দ্বিতীয় ইমরান ছিলেন মারইয়াম (আঃ) এর পিতা। প্রথম ইমরান বনি ইসরাইলের প্রথমদিকে ফেরাউনের আমলে মিসরে বাস করতেন আর দ্বিতীয় ইমরান বনি ইসরাইলের শেষের দিকে বাইতুল মুকাদ্দাসে বাস করতেন।
তৎকালে ইমরান ছিলেন বনি ইসরাইলের মধ্যে সাত্ত্বিক ও নামাজি ব্যক্তি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ প্রকৃতির লোক। তার স্ত্রী ও ছিলেন সৎ, সতী- সাধ্বী ও ইবাদত গুজার এক আল্লাহর বান্দি। আল্লাহ তায়ালা এ বরকতপূর্ণ স্ত্রীর গর্ভেই মারইয়াম (আঃ) কে দান করেন। আর মারইয়ামের মাতার নাম হান্না।
মারইয়ামের জম্ন
“যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, হে আমার রব, আমার গর্ভে যা আছে নিশ্চয় আমি তা একান্ত আপনার জন্য মানত করলাম। কাজেই আপনি আমার নিকট থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। তারপর যখন সে তা প্রসব করলো তখন সে বলল, হে আমার রব, নিশ্চয় আমি তাকে প্রসব করেছি কন্যারূপে। সে যা প্রসব করেছে তা সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত। আর পুত্রসন্তান কন্যাসন্তানের মতো নয়। আমি তার নাম রেখেছি মারইয়াম এবং অভিশপ্ত শয়তান হতে তার ও তার সন্তান কে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি।”
এর মাধ্যমে বুঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা মারইয়াম (আঃ) এর জম্নের আলোচনার মাঝে ঈসা (আঃ) এর জম্নের কথাও বলে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে নাসারাদের ভ্রান্ত বক্তব্য “ঈসা আল্লাহর পুত্র”- এর অসারতা স্পষ্ট হয়ে যায়।
ইমরানের স্ত্রী বলেছিলেন, “হে আমার প্রতিপালক, আমার গর্ভে যা আছে তা একান্ত আপনার জন্য আমি উৎসর্গ করলাম”। অর্থাৎ বায়তুল মুকাদ্দাসের খাদিম বানাবেন। অতঃপর তিনি একটি কন্যা সন্তান প্রসব করলেন। তিনি তাঁর নাম রাখলেন মারইয়াম। দুগ্ধ পানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁর মা তাকে নিয়ে বায়তুল মসজিদে চলে যান এবং সেখানকার ইবাদতকারী লোকদের নিকট সোপর্দ করেন। মারইয়াম ছিলেন তাদের ইমাম ও ধর্মীয় নেতার কন্যা। যার কারণে সবাই তাকে প্রতিপালনের সৌভাগ্য অর্জন করতে চেয়েছিলেন।
আল্লাহ তায়ালা মারইয়াম (আঃ) জম্নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আদ্যেপান্ত আলোচনা করেছেন। শিশুকালেই আনুগত্য ও ইবাদতকে তার স্বভাবজাত করে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ তাকে এক বিশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য মনোনীত করেন। মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থাতেই তাকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করা হয়। আল্লাহর ইবাদত ও বাইতুল মুকাদ্দাসের সেবার জন্য তাকে মনোনীত করা হয়। তাকে বলা হতো “মুহারাব”- যার অর্থ পূর্ণ স্বাধীন, দুনিয়াবি সকল ব্যস্ততা থেকে আলাদা করে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের জন্য মনোনীত ব্যক্তি।
মারইয়াম গর্ভে থাকা অবস্থায় তার মা তাকে আল্লাহর জন্য মানত করেন, যে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে। তার জীবনে অন্য কোন ব্যস্ততা থাকবে না। ফলে তাকে পূর্ণ স্বাধীন করে দেওয়া হয়। তবে এটি সম্ভব হয়েছিলো নফস ও প্রবৃত্তির সকল প্রকার বশ্যতা ও দাসত্ব থেকে চিরমুক্তির মাধ্যমে। দুনিয়ার দাসত্ব থেকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে। একমাত্র আল্লাহর আদেশ- নিষেধ মনে চলার মাধ্যমে। ইবাদতের পথে সব ধরণের প্রতিবন্ধকতা জয় করার মাধ্যমে।
“মারইয়ামের জম্নের পরেও তার মায়ের দোআ তার জন্য চলমান ছিল। তিনি তার রবের কাছে দুয়া করছেন যেন তার সন্তান কে কবুল করেন এবং তাকে বরকতপূর্ণ করে দেন। তাকে শয়তান থেকে হিফাজত করেন। আল্লাহ তায়ালাই সর্বোত্তম হিফাজতকারি। তিনিই সর্বাপেক্ষা অনুগ্রহকারী ও কর্মসম্পাদনকারী। ইমরানের স্ত্রীর দুয়ার মাঝে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, তার এ সন্তান যেন যৌবনে উপনীত হয় এবং তার গর্ভেও সন্তান জম্নগ্রহন করে। আল্লাহ তায়ালা এ দোয়া ও কবুল করেছেন।”
মারইয়ামের উত্তম প্রতিপালনের সুব্যবস্থা
মারইয়ামের দেখাশুনার দায়িত্ব কে গ্রহণ করবে এই বিষয় নিয়ে সকলে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। হযরত জাকারিয়া (আঃ) ছিলেন সে যুগের নবী। তাছাড়া তিনি মারইয়াম (আঃ) এর খালার স্বামী ছিলেন। তিনিও চাচ্ছিলেন, মারইয়ামের দেখাশুনার দায়িত্ব নিতে। অবশেষে তারা কলমের মাধ্যমে তিনবার লটারি করলেন। প্রতিবারই জাকারিয়া (আঃ) এর কলম স্রোতে টিকে থাকে আর বাকিদের কলম স্রোতের সঙ্ঘে ভেসে যায়। তাই তিনিই মারইয়াম (আঃ) এর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। মূলত এটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত ছিল যে, মারইয়াম (আঃ) তার খালা ও খালুর (জাকারিয়া) দায়িত্বে থাকবেন।
যদিও জাকারিয়া (আঃ) মারইয়ামের দায়িত্ব গ্রহনের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তাকে পথ দেখিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। তিনিই তার জন্য বিষয় টি সহজ করে দিয়েছেন।
মারইয়াম (আঃ) মিহরাবে অবস্থানকালে সবসময় ইবাদতে লিপ্ত থাকতেন, আর তার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে অলৌকিক রিজিক আসতো। এমন রিজিক আসতো, যেগুলো সচরাচর তাদের কাছে পরিচিত ছিলনা। জাকারিয়া (আঃ) যখনই তার কক্ষে প্রবেশ করতেন এ ধরণের খাবার দেখতে পেতেন। মারইয়াম কে খাবার দেওয়ার দায়িত্ব তার কিন্তু তিনি তো এসব খাবার দেননি। তিনি তখন খুব আশ্চর্যান্বিত হতেন এবং বলতেন, হে মারইয়াম! এসব খাবার তুমি কোথায় পেলে? মারইয়াম বলতেন, “তা আল্লাহর নিকট হতে। নিশ্চয় আল্লাহ অপরিমিত রিজিক দান করেন।”
“আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি তার সৃষ্টির মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিজিক দান করেন, এ ব্যাপারে তিনি কারো কাছে দায়বদ্ধ নন। আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদেরকে হিসাব করে রিজিক প্রদান করেন না। কেননা এ দানের মাধ্যমে তার ভান্ডারে কোন কমতি আসে না। হিসাব তো করে সেই, যে তার খাজানা হ্রাস পাওয়ার ভয় বা আশঙ্খা করে।”
পুরো দুনিয়াবাসী থেকে মারইয়াম কে মনোনীত করার কারণ
মারইয়াম মনোনীত করার বিভিন্ন দিক হচ্ছে-
তিনি নারী হওয়া সত্ত্বেও বাইতুল মুকাদ্দাসের জন্য তার উৎসর্গীকরণ কে কবুল করা হয়। ইতোপূর্বে আর কোন নারীকে এক্ষেত্রে গ্রহণ করা হয়নি।
তাকে সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে সম্মানিত করা হয়।
আল্লাহ তায়ালা একমাত্র তারই ইবাদতের জন্য তাকে দুনিয়াবি সকল ব্যস্ততা থেকে আলাদা করে দেন।
তাকে সরাসরি ফেরেশতার কথা শোনার সৌভাগ্য দান করেন।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম নারী তিনি। প্রথম নারী হাওয়া থেকে কিয়ামতের পূর্বে আগত শেষ নারী পর্যন্ত কেউ তার উপরে নন।
ঈসার জম্ন
মারইয়াম (আঃ) জীবনে বিবাহ করেননি। আল্লাহ তায়ালা অলৌকিকভাবে ঈসা (আঃ) কে তার গর্ভে দান করেন। ঈসা (আঃ) ও বিয়ে করেননি। বরং তাকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার কোন পরিবার বা সন্তানাদি নেই।
মারইয়াম (আঃ) একদিন মসজিদের পূর্বদিকে এক স্থানে পর্দা টাঙ্গিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নিকট ফেরেশতা জিবরাইল (আঃ)-কে প্রেরণ করেন। তিনি মারইয়ামের নিকট মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করলেন। মারইয়াম ভয় পেয়ে বললেন, “আমি তোমার থেকে করুনাময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি যদি তুমি আল্লাহভীরু হও।” জিবরাইল (আঃ) বললেন, “আমি তো কেবল তোমার প্রভুর প্রেরিত। এজন্য যে, আমি তোমাকে একটি পবিত্র পুত্র সন্তান দান করে যাব।” মারইয়াম বললেন, “কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিনী নই।” জিবরাইল (আঃ) বললেন, “এভাবেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্য সহজ ব্যাপার এবং আমরা তাকে মানবজাতির জন্য একটা নিদর্শন ও আমাদের পক্ষ হতে বিশেষ অনুগ্রহরূপে পয়দা করতে চাই। তাছাড়া এটা নির্ধারিত বিষয়।”
“স্বাভাবিকতা- অস্বাভাবিকতা হচ্ছে মানুষের ক্ষেত্রে। তারা তাদের জ্ঞান অনুযায়ী সেগুলো কে গ্রহণ করে এবং সেখান থেকে একটি মূলনীতি বের করে নিয়ে আসে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক- অস্বাভাবিক বলে কোন বিষয়ই নেই। সবকিছু তার ইচ্ছাধীন। তার ইচ্ছার ক্ষেত্রে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।”
অতঃপর জিবরাইল (আঃ) মারইয়ামের মুখে অথবা তাঁর পরিহিত জামায় ফুঁক মারলেন এবং তাতেই তাঁর গর্ভ সঞ্চার হল। এরপর তিনি এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলেন এবং প্রসব বেদনার অবস্থায় এক খেজুর গাছের নিচে আশ্রয় নিলেন। তিনি বললেন, “হায়, এর পূর্বে আমি যদি মারা যেতাম ও লোকের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হতাম।” তখন এক আহ্বানকারী তাকে বললেন, “তুমি দুঃখ করো না, তোমার নীচ দিয়ে তোমার প্রতিপালক এক নহর সৃষ্টি করেছেন। তুমি তোমার দিকে খেজুর গাছের কাণ্ডে নাড়া দাও, তা তোমাকে পাকা তাজা খেজুর দান করবে। সুতরাং তা আহার কর, পান কর ও চোখ জুড়াও।” মারইয়ামকে আরও বলা হল, “মানুষের মধ্যে কাউকেও যদি তুমি দেখ, তখন বলবেঃ আমি দয়াময়ের উদ্দেশ্যে মৌনতাবলম্বনের মানত করেছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে বাক্যালাপ করব না।”
সন্তান প্রসবের পর তিনি তাঁর সন্তানকে নিয়ে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হল। লোকেরা বিস্মিত হয়ে তাঁকে বলল, “হে মারইয়াম, তুমি তো এক অদ্ভুত কাণ্ড করে বসেছ”। মারইয়াম তাঁর সন্তানের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। তারা বলল, “কোলের শিশুর সাথে আমরা কিভাবে কথা বলব।” তখনই মারইয়ামের শিশুপুত্র ঈসা (আঃ) বলে উঠলেন, “আমি তো আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন, আমাকে নবী করেছেন। যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন।”
“রাসুল (সঃ) বলেন, প্রত্যেক সদ্যভুমিস্ট সন্তান কে শয়তান স্পর্শ করে এবং তার কারণে সে চিৎকার দিয়ে উঠে। শুধুমাত্র মারইয়াম ও তার ছেলে ব্যতীত।”
মারইয়াম (আঃ) এর মিসর গমন
ঈসা কে নিয়ে স্বীয় গোত্রে আগমন এবং তার মুখে কথা- বার্তা প্রকাশ, বাইতুল মুকাদ্দাসে এসে তার নামের ঘোষণা ও মুসলমানি করান। কিন্তু ঈসার হাতে তাদের ভ্রান্ত রাজত্বের সমাপ্তি হবে এ ভয়ে তারা শিশু ঈসা কে হত্যার পরিকল্পনা করে। এমতাবস্তায় মারইয়াম (আঃ) ঈসা কে নিয়ে মিসরে গমন করেন এবং পারস্য সম্রাটের মৃত্যু পর্যন্ত মিসরে অবস্থান করেন। পারস্য সম্রাটের মৃত্যুর পর মারইয়াম ঈসা কে নিয়ে পুনরায় বাইতুল মুকাদ্দাসে ফিরে আসেন।
মারইয়ামের মৃত্যু
মিসর থেকে ফেরার পর ঈসা (আঃ) এর নবুওয়াত লাভ এবং তাকে সশরীরে আসমানে উঠিয়ে নেয়া পর্যন্ত মারইয়ান (আঃ) জীবিত ছিলেন। অতপর ঈসা আল্লাহর কাছ থেকে মা মারইয়ামের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি পেয়ে একদিন পৃথিবীতে আসেন এবং মায়ের উদ্দেশ্যে বলেন,
“আপনার মৃত্যু অতি নিকটে, সুতরাং ধৈর্য ধারণ করুন এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করুন।”
“মানুষের উচিত সৃষ্টিকর্তার ক্ষেত্রে আদব বজায় রাখা। তার সীমারেখা মেনে চলা। প্রবৃত্তির অনুসরণ করে স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত না হওয়া। তারা তো সম্ভব- অসম্ভব সব বিষয়ে জবান চালায়। আল্লাহর ক্ষমতাকে তার নিজের অভিজ্ঞতার গন্ডিতে সীমাবদ্ধ করতে চায়। অথচ তার ও তার এ বক্তব্যের কি ই বা মূল্য আছে!”
ব্যক্তিগত মতামত
নিঃসন্দেহে মারইয়াম (আঃ) এর জীবন ব্যক্তি জীবনের জন্য আদর্শস্বরূপ। আমি খুবই ক্ষুদ্র একজন পাঠক, প্রতিক্রিয়া জানানোর সেই দুঃসাহস মোটেও করতে পারিনা। পরামর্শ হিসেবে তবে লেখক/অনুবাদক যদি আরও এক্টু মনোযোগী হতো তাহলে বইটি পড়ে আরও বেশি আনন্দ পাওয়া যেতো। বইটি তে লেখক সবকিছু তুলে ধরেছেন তবে সাগরের মধ্যে মুক্তা খোঁজার মতো অবস্থা। সবকিছু ছড়িয়ে- ছিটিয়ে লেখা হয়েছে আর রিডান্ডেন্সি তে ভরপুর। আশা করছি পরের এডিশনে আরও সুন্দর- গোছানো ভাবে বইটি পাঠকের হাতে পৌঁছাবে।


