বুক রিভিউঃ থিঙ্ক অ্যান্ড গ্রো রিচ, নেপোলিয়ন হিল
থিঙ্ক অ্যান্ড গ্রো রিচ নেপোলিয়ন হিলে’র লেখা একটি পার্সোনাল ডেভেলপমেন্ট এবং সেলফ- হেল্প বই। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, বইটিতে লেখক পাঠকদের জন্য ফিন্যান্সিয়াল সাফল্য অর্জনে পজিটিভ মাইন্ডসেট, গোল সেটিং’স, এবং অধ্যাবসায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
বইটি’র লেসন’স গুলো মূলত নেওয়া হয়েছে হিলের সাথে বিভিন্ন সফল ব্যক্তি যেমন- অ্যান্ড্রু কার্নেগি, হেনরি ফোর্ড এবং টমাস এডিসনের মতো মানুষদের সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে।
থিঙ্ক অ্যান্ড গ্রো রিচ আসলেই অসাধারণ একটি বই এবং সবক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক যার ফলে এতো বছর পর এসেও সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বইগুলোর মধ্যে এটি একটি। আমার মনে হয়, কেউ যদি সাবস্টেন্স কিছু তৈরি না করে তাহলে এতো বছর প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখা আসলেই কঠিন।
আমি সম্প্রতি বইটি পড়া শেষ করেছি এবং ইতিবাচকভাবে অনেকবেশি অনুপ্রাণিত হয়েছি। বইটিতে হিল সাফল্যের ১৩টি স্তরের রূপরেখা বর্ণনা করেছেন, যা নিম্নরূপঃ
০১। ডিসায়ারঃ সাফল্যের জন্য বারনিং ডিসায়ার থাকা বাঞ্ছনীয়
হিল এর মতে, সফল হওয়ার পূর্ব শর্ত হচ্ছে সেই সফলতা টা পাওয়ার জন্য লক্ষ্যের প্রতি আপনার একটা ইন্টেন্স ইচ্ছা/ডিসায়ার থাকা বাঞ্ছনীয়। আর এই ডিসায়ার টা এতোটাই বারনিং হওয়া চাই যে, যেটা একশন/কাজ শুরু করতে আপনাকে বাধ্য করবেই। হিলের মতে, যেকোন লক্ষ্যের জন্য একটা বারনিং ডিসায়ার ই হল সমস্ত সাফল্যের সূচনা, এবং এটা ছাড়া আপনি কোনভাবেই আপনার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন না। এর জন্য প্রথমে প্রত্যেক মানুষের যে ডিপেস্ট ডিসায়ার থাকে সেগুলো আইডেন্টিফাই করে সেগুলো অর্জন না হওয়া পর্যন্ত নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাওয়া টাকেই তিনি এই বইয়ে প্রাধান্য দিয়েছেন। যেকোন ডিসায়ার আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে সফলতা আসে মূলত কোন লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থেকে কাজ করা, দৃঢ় প্রত্যয়, অটল ইচ্ছাশক্তি এবং সে ইচ্ছাশক্তিকে বাস্তবে পরিণত করার দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে।
“সমস্ত এচিভমেন্টের সূচনা বিন্দু হল ইচ্ছা এবং এটা প্রতিনিয়ত সবার মাথায় রাখা উচিত। দুর্বল ইচ্ছাশক্তি দুর্বল ফলাফল নিয়ে আসে, যেমনটা অল্প আগুনের তাপমাত্রা অল্প হয়।”
০২। বিশ্বাসঃ নিজের উপর অটুট বিশ্বাস রাখা
সফল হওয়ার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির ই নিজের প্রতি এবং নিজের ক্যাপাবিলিটির উপর অঢেল বিশ্বাস থাকতে হবে। চলার পথে যেকোন ধরণের বাঁধা- বিপত্তির মুখে পতিত হলেও যেন নিজের প্রতি এই বিশ্বাস অটুট ও অটল থাকে।
বিশ্বাস এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম যা আপনাকে যেকোনো বাধা অতিক্রম করে আপনার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। ফেইথ মানুষের মাঝে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে, যা যেকোন সাফল্যের জন্য অপরিহার্য। এই ফেইথ ব্যক্তির মধ্যকার ভয় এবং সেলফ-ডাউট দূর করতেও সাহায্য করে, যা অনেক সময় সাকসেসের পথে বড় বাধা তৈরি করে। নিজের এবং নিজের এবিলিটির উপর বিশ্বাস রেখে, নিজের ইনার শক্তিকে জাগ্রত করার মাধ্যমে আপনি যেকোন কিছুই এচিভ করতে সক্ষম হবেন যদি আপনি সে অনুযায়ী কাজ করেন।
“আপনি কি করতে চান জীবনে তা বিশ্ব কে বলার আগে কাজটি করে দেখান। কারণ কথার চেয়ে কাজই সবচেয়ে বেশি গণনা হয়।”
০৩। অটো-সাজেশনঃ ডিসায়ার এবং ফেইথ কে শক্তিশালী করে তুলতে পজিটিভ সেলফ- টক পদ্ধতি অবলম্বন করা
হিলের মতানুসারে, ব্যক্তির নিজের সম্পর্কে চিন্তাভাবনাগুলোই তার সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে অটো সাজেশন পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে আপনি আপনার চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি সবকিছুর ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারবেন।
এখানে, অটো সাজেশন বলতে নিজেকে বারবার পজিটিভ এফারমেশন শোনানো। যেমন “আমি সফল” বা “আমি আমার লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম” ইত্যাদি। এটা আপনার অবচেতন মনকে পজিটিভ আউটকামের প্রতি ফোকাস এবং নিজের ও নিজের ক্যাপাবিলিটির উপর যে বিশ্বাস তৈরি হয়েছে তাকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। হিল বিশ্বাস করেন যে, অটো সাজেশন সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, কারণ অটো সাজেশন নেতিবাচক চিন্তাভাবনা গুলোকে ইতিবাচক চিন্তাভাবনার মাধ্যমে রিপ্লেস করতে সহায়তা করে। আর এই অটো সাজেশনের মাধ্যমে আপনি নিজে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি কাজে অনুপ্রাণিত হবেন, আশাবাদী হবে্ন এবং শেষ পর্যন্ত আপনার লক্ষ্য অর্জনে সফল হবেন।
“আপনি যদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারেন তাহলে নিজের দ্বারায় নিয়ন্ত্রিত হবেন।”
০৪। স্পেশালাইজড নলেজঃ লক্ষ্যের সাথে প্রাসঙ্গিকতা রেখে স্পেশালাইজড নলেজ অর্জন করা
যেকোন বিষয়ে সফলতা অর্জনের জন্য সেই বিষয়ের উপর স্পেশালাইজড নলেজ অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। সফলতার জন্য ইচ্ছাশক্তি ও জ্ঞান উভয়েরই সমন্বয় প্রয়োজন এবং এই স্পেশালাইজড নলেজ আপনার ইচ্ছাশক্তিকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। এর অর্থ হল ক্রমাগত নিজেকে আপডেট করা, একই ফিল্ডের অভিজ্ঞদের খোঁজে বের করা এবং যারা অলরেডি সফল হয়েছে তাদের কাছ থেকে শেখা।
এইস্পেশালাইজড নলেজ আপনাকে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে, নতুন নতুন অপরচুনিটি’স খোঁজে বের করতে এবং আরও বেশি ইফেক্টিভ ভাবে যেকোন বাধা অতিক্রম করতে সহায়তা করবে। এভাবে আপনার জ্ঞান প্রসারিত করার মাধ্যমে নিজের প্রতি আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন এবং আপনার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবেন। সফলতা অর্জনের একটি মূল মাধ্যম হল এই স্পেশালাইজড নলেজ। তাই প্রত্যেকেরই তাদের ব্যক্তিগত ও প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্টের জন্য এই স্পেশালাইজড নলেজ কে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
“যেকোন কিছু পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করা এবং সেটি পাওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তি নিজেই বিশ্বাস করেনা যে সে সেই জিনিস টি অর্জন করতে সক্ষম ততোক্ষণ পর্যন্ত সে সেই জিনিস টি পাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়না। সবসময় সবকিছুতে ফেইথ কেই প্রাধান্য দিতে হবে, নিছক হোপ বা উইশকে না। ওপেন মাইন্ডেড হওয়া ফেইথের ক্ষেত্রে অপরিহার্য।”
০৫। ইমাজিনেশনঃ সফলতা কে ভিজুয়ালাইজ করতে নিজের কল্পনাশক্তি কে ব্যবহার করা
ইমাজিনেশন সাকসেসের জন্য একটি শক্তিশালী টুল, কারণ এটি আপনার লক্ষ্যগুলোকে ভিজুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে তা জীবনে প্রতিফলন করতে সহায়তা করে। ইমাজিনেশন শক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি জীবনে কী অর্জন করতে চান, কখন চান ও কীভাবে চান তার একটি পরিষ্কার চিত্র নিজের ভেতর তৈরি করতে পারবেন। এটি আপনাকে কাজে ফোকাস থাকতে, ডিস্ট্রাকশন দূর করতে, মোটিভেটেড থাকতে এবং আপনার লক্ষ্যগুলোকে ট্র্যাকে রাখতে সাহায্য করবে।
এছাড়া ইমাজিনেশন শক্তি একজন ব্যক্তিকে নতুন নতুন অপরচুনিটিস এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের সমস্যার ইনুভেটিভ সমাধান খোঁজে পেতে সাহায্য করে। আপনার স্বপ্ন এবং লক্ষ্যগুলো কে বাস্তবে পরিণত করতে ইমাজিনেশন শক্তিকে কাজে লাগাতে পারেন। মূলত এই বইটিতে হিল রিডারদের সর্বক্ষেত্রে তাদের সাফল্য নিশ্চিতকরণের হাতিয়ার হিসেবে ইমাজিনেশন শক্তি কে নিয়মিত ব্যবহার করার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
“লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই যদি আপনি হাল ছেড়ে দেন তাহলে আপনি একজন “কুইটার”।
একজন কুইটার কখনোই জিততে পারে না এবং একজন বিজয়ী কখনোই হাল ছেড়ে দেয় না।
এই বাক্যটি আপনি একটি কাগজে বড় বড় করে লিখে কাগজ টি এমন স্থানে রাখুন যেখান থেকে কাগজটি প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ও সকালে কাজ শুরু করার আগে দেখতে পাবেন।”
০৬। অর্গানাইজড পরিকল্পনাঃ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি অর্গানাইজড পরিকল্পনা তৈরি করা
অর্গানাইজড পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- আপনার জীবনের উদ্দেশ্য, ক্লিয়ার ও স্পেসিফিক লক্ষ্য সেট করা এবং সেগুলো অর্জনের জন্য একটি কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করা যেটা আপনাকে আপনার লক্ষ্যগুলো এচিভ করতে সাহায্য করবে। এই অর্গানাইজড পরিকল্পনা পদ্ধতিটি প্রতিটি ইন্ডিভিজুয়াল কে তাদের চিন্তাভাবনা ও প্রচেষ্টাকে ফোকাস করার পাশাপাশি তাদের ডিসায়ার গুলো এচিভ করতে যে সমস্ত বাধার সম্মুখীন হতে হয় তা অতিক্রম করতে সাহায্য করে। হিলের দেওয়া প্রিন্সিপাল’স গুলো অনুসরণের মাধ্যমে যে কেউ তাদের মনোশক্তিকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে তাদের চিন্তাভাবনাগুলোকে বাস্তবে পরিণত করতে পারে।
“যার প্রচুর পরিমাণে স্পেশালাইজড নলেজ আছে সে একজন শিক্ষিত মানুষ হবে বিষয়টা এমন না। বরং শিক্ষিত মানুষ হলেন তিনিই যিনি তার মনের অবস্থা কে এতোটাই বিকশিত করতে পেরেছেন যে অন্যের অধিকার লঙ্ঘন না করেই তিনি যা চান তা অর্জন করতে সক্ষম।”
০৭। ডিসিশানঃ লক্ষ্য অর্জনে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিন
ডিসিশান ই নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের একটি ক্লিয়ার ও স্পেসিফিক প্রক্রিয়া। ব্যক্তি তার সিন্ধান্তের প্রতি অটুট বিশ্বাস রেখে সেই সিন্ধান্তকে কাজে পরিণত করতে পারার যে ক্ষমতা তার গুরুত্বের উপর হিল অনেক বেশি ফোকাস করেছেন।
একমাত্র ডিসিশান এর পাওয়ার ই যেকোন ধরণের সাফল্যের চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। কারণ এটি মানুষকে তাদের চিন্তা- শক্তি, ও তাদের মাঝে থাকা বিদ্যমান রিসোর্সের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্যগুলোর দিকে ফোকাস করতে সহায়তা করে। একটি ক্লিয়ার ডিসিশান ছাড়া মানুষ ডিরেকশানহীন হয়ে পড়ে ফলে সহজেই তাদের মাঝে সেলফ-ডাউট এবং ভয় কাজ করা শুরু করে। একটি দৃঢ় ডিসিশান নেওয়ার মধ্যে যেসব বিষয় রয়েছে তা হল- আপনি সত্যিই কী চান তার চিহ্নিতকরণ, সেটি অর্জনের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ এবং অটল দৃঢ়তার সাথে সেই লক্ষ্য অর্জনে পদক্ষেপ নেওয়া ইত্যাদি। আর এসব রিলিজিয়াসলি ফলো করার মাধ্যমে যে কারোরই যেকোন কিছু এচিভ করা সম্ভব।
“অন্য লোক আপনার ব্যাপারে কি ভাবছে, কি করে বা বলে তা নিয়ে চিন্তা না করার সিদ্ধান্তে পৌঁছান।”
৮। অধ্যবসায়: প্রতিবন্ধকতা এবং বিপত্তির মুখে অবিচল থাকুন
অধ্যবসায় ই হল সফলতা অর্জনের মূল কারণ। আর এটাই সকল বাধা বা প্রতিবন্ধকতার সত্ত্বেও নিজের লক্ষ্যের দিকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অটল সংকল্প। তাছাড়া অধ্যবসায়ের পাশাপাশি নিজের এবং নিজের ক্ষমতার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন। সেইসাথে এই ও বুঝতে হবে যে সফলতা আসলে কোন গন্তব্য নয়, বরং একটি অবিচ্ছিন্ন যাত্রা।
আর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে যে কেউ তার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে পারে। সফল ব্যক্তিরা নিরলসভাবে অধ্যবসায় করে যায়। তারা কখনও তাদের লক্ষ্য ছেড়ে দেন না বরং ক্রমাগত নিজেদের পোশ করতে থাকে ভালো কিছু অর্জনের আশায়। সুতরাং, সাফল্য অর্জনের জন্য প্রত্যেক কে অবশ্যই অধ্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে দৃঢ় সংকল্পের গুণাবলী গড়ে তুলতে হবে এবং সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করার মানসিকতা সম্পন্ন হতে হবে।
“অধ্যবসায়ের কোন বিকল্প নেই। যে ব্যক্তি অধ্যবসায়কে তার ওয়াচ-ওয়ার্ড করে তোলে সে "ওল্ড ম্যান ব্যর্থতা" আবিষ্কার করে অবশেষে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সেই জার্নি থেকে প্রস্থান করে। তবে ফেইলিয়র কখনোই অধ্যাবসায়ের সাথে মানিয়ে নিতে পারে না।"
০৯। পাওয়ার অব মাস্টার মাইন্ডঃ এমন ব্যক্তিদের মাঝখানে নিজেকে রাখুন যারা আপনার সাফল্যকে সমর্থন করে
সমমনা মানুষদের সাথে নিজেকে ঘিরে রাখার গুরুত্ব হল তারা সকলেই একটি কমন লক্ষ্য শেয়ার করে এবং সেটা অর্জনে একে অপরকে সমর্থন করে। একটি মাস্টারমাইন্ড গ্রুপ- যেখানে মানুষ তাদের একে অপরের জ্ঞান, দক্ষতা এবং রিসোর্সেস গুলোকে পুল করার মাধ্যমে প্রত্যেক সদস্যদের সফলতাকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এখানে মাস্টারমাইন্ড প্রিন্সিপাল’টির মূল আইডিয়া হল যে কোন বিষয়ে দু’জন ব্যক্তির কোলাবোরেশন বা আলোচনা একা ব্যক্তির কোলাবোরেশন বা আলোচনা থেকে অনেক বেশি ফলপ্রসূ। কারণ দু’জন ব্যক্তির কোলাবোরেশন এর সমন্বয়েই ভালো আইডিয়া বের করা, ভালো প্রব্লেম সল্ভিং পদ্ধতি বের করতে পারা, এবং ওভারঅল তাদের লক্ষ্যের দিকে দ্রুত আগাতে পারে। বইয়ের এই স্টেজ টি পার্সোনাল গ্রোথ ও সফলতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই স্টেজ টিই সমস্ত চ্যালেঞ্জ অতিক্রমে সাহায্য করার পাশাপাশি ব্যক্তির স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট এবং একাউন্টেবিলিটি প্রদান করে।
"কোন মানুষ যদি কিছু কল্পনা করে সে গুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে তাহলে সে তা অবশ্যই অর্জন করবে।"
১০। সেক্স ট্রান্সমিউটেশনের রহস্যঃ যৌন শক্তিকে ক্রিয়েটিভ এচিভমেন্টে চ্যানেল করা
এই স্টেজ অনুসারে, যৌন শক্তি মানব প্রকৃতির সবচেয়ে পাওয়ারফুল ফোরসগুলোর একটি এবং এটি ক্রিয়েটিভ কাজ করার ক্ষেত্রে বা নিজের এম্বিশন পূরণে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার যৌন শক্তিকে একটি ক্রিয়েটিভ পারসুইটের দিকে ঝুকে দিতে পারে যেমন- কোন ব্যবসা শুরু’র মাধ্যমে বা পার্সোনাল গোল এচিভ করার ক্ষেত্রে কাজ করে ইত্যাদি।
হিল দাবি করেন যে, মাস্টার অব সেক্স ট্রান্সমিউটেশন পদ্ধতি টা এপ্লাই করে যে কেউ তাদের ফোকাস, কাজের প্রতি এক ধরণের ড্রাইভ তৈরি ও ডিটারমিনেশন ইত্যাদি বৃদ্ধির পাশাপাশি তারা যে কোন ধরণের কাজে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। তিনি এই শক্তিকে ওয়েস্টেড বা মিসডাইরেক্টেড পথে ব্যবহার না করে পজিটিভ ও প্রুডাক্টিভ উপায়ে ব্যবহার করার গুরুত্বের উপর জোর দেন।
১১। সাবকন্সাস মাইন্ডঃ লক্ষ্য অর্জনে অবচেতন মন কে ব্যবহার করা
সাবকন্সাস মাইন্ড একজন ব্যক্তির বিশ্বাস ও অভ্যাসের উৎস। আর এই উৎস টাকে যে কোন ব্যক্তি তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে কাজ করার জন্য ট্রেইনড করতে পারে। কারণ জীবনে সফলতা অর্জনে সাবকন্সাস মাইন্ডের গুরুত্ব অবর্ণনীয়।
ভিজুয়ালাইজেশন, ডিসায়ার, এফারমেশন, সেলফ- রিফ্লেকশন ইত্যাদির পাওয়ারকে এলাইনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কীভাবে তার সাবকন্সাস মাইন্ড কে পরিচালনা করবে তার জন্য কিছু প্রাক্টিক্যাল স্টেপ’স হিল তার এই বইয়ে খুব সুন্দর করে আলোচনা করেছেন। এর পাশাপাশি হিল নিজের মধ্যে সবসময় পজিটিভ মনোভাব তৈরি করা এবং একজন ব্যক্তি কীভাবে নিজেকে সাপোরটিভ পরিবেশের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে রাখতে পারে বা থাকতে পারে তার গুরুত্বকে ও অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। তার মতে, সাবকন্সাস মাইন্ড কে বুঝা-পড়ার মাধ্যমে যে কারোরই ফাইন্যান্সিয়াল সাকসেসের পাশাপাশি পার্সোনাল সাকসেস এচিভ করা সম্ভব।
“মানুষ তার চিন্তার প্রতিচ্ছবি। আর ডমিনেটিং টথ’স তার মনকে অকুপাই করে রাখতে পারমিট করে।”
১২। ব্রেইনঃ ব্রেইনের শক্তিকে ম্যাক্সিমাইজ করার জন্য ফোকাসড কনসেন্ট্রেশন হ্যাবিট ডেভেলপ করা
মানব মস্তিষ্ক একটি শক্তিশালী টুল যাকে ব্যক্তি তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য ট্রেইন্ড ও ডেভেলপ করতে পারে। নিজের মধ্যে ক্রমাগত শেখার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমস্ত ডিসায়ার ফিলাপ হওয়ার আগে আপনি সেই ডিসায়ার বা স্বপ্নটা কীভাবে এচিভ করতে চান, তার আউটকাম কি হবে ইত্যাদি ভিজুয়ালাইজেশন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, নেতিবাচক চিন্তাভাবনা, বিলিফ’স ইত্যাদি এড়িয়ে যাওয়ার তাৎপর্য হল এই নেগেটিভ চিন্তাভাবনা, মনোভাব একজন ব্যক্তির উন্নতিসহ সব ধরণের সম্ভাবনাকে লিমিট করার পাশাপাশি মানব মস্তিস্কে সফলতা লাভের জন্য যে আরজ বিদ্যমান, সেই আরজের ক্ষমতা কে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। তাই সব ধরণের নেগেটিভ জিনিসপত্র বাদ দিয়ে, মানুষের সবচেয়ে পাওয়াফুল অর্গান- ব্রেইনের পুরো শক্তিকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে মানুষ তাদের সম্পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জন করার পাশাপাশি ফাইন্যান্সিয়াল সাকসেস ও এচিভ করতে সক্ষম হয়।
“ভয়, সকল ধরণের শত্রুদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ শত্রু। কিন্তু একে সাহসের সাথে জোরপূর্বক ভাবে কিউর করা সম্ভব।”
১৩। সিক্স সেন্সঃ সফলতার পথে নিজেকে নিজেই গাইড করার ইন্টুইশন ডেভেলপ করা
সিক্স সেন্স ধারণাটি মূলত একজন ব্যক্তির ইন্টুইশন ও ইনার ভয়েস কে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। এই সিক্স সেন্স সাবকন্সাস মাইন্ডের সাথে ডিরেক্টলি কানেক্টেড এবং মানুষের জীবনে সাকসেস বয়ে আনতে একটি পাওয়াফুল টুল হিসেবে কাজ করে। নিজের ইন্টুইশনের প্রতি বিশ্বাস রেখে একজন ব্যক্তি তার ক্রিয়েটিভিটি, ইন্সাইট, এবং নিজের বুঝা-পড়ার ক্ষমতাগুলোকে ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে নতুন নতুন অপরচুনিটিস ও সাকসেসের দিকে ধাবিত করতে পারে। বইটিতে হিল কীভাবে এই সিক্স সেন্সকে শক্তিশালি করে গড়ে তুলতে হয়, এবং ব্যক্তি যাতে নিজের মধ্যকার ইনার পিচ ডেভেলপ করার পাশাপাশি ইনার ভয়েস কে শোনতে পায় সেই কৌশলগুলো অন্তর্ভুক্ত করেন। বইয়ে দেওয়া তত্ত্ব অনুসারে, যে সব ব্যক্তি তাদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে (সিক্স সেন্স) ব্যবহার করার পাশাপাশি এর শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে তারা জীবনে ব্যক্তিগত দিক ও আর্থিক দিক থেকে সাফল্য নিয়ে আসবে অবশ্যই।
“জ্ঞানই শক্তি! এটা এমন কিছু না! জ্ঞান শুধুমাত্র সম্ভাব্য শক্তি। কিন্তু এটি তখনই আসল শক্তিতে পরিণত হয় যখন জ্ঞানটাকে একটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় সংগঠিত করার পাশাপাশি একটা সুনির্দিষ্ট শেষের দিকে পরিচালিত করা যায়।”
ব্যক্তিগত মতামত
স্টেপগুলো হিলের টিচিং’স এর উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং ব্যক্তিগত ও আর্থিক সাফল্যের জন্য একটি রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করে। অবশ্যই সবার জন্য একটা হাইলি রেক্মেন্ডেড বই।


