প্রোডাক্টিভিটি’র চার প্রতিবন্ধকতা
গ্যারি কেলারস তার চমৎকার বই দ্য ওয়ান থিং-এ আমাদের প্রোডাক্টিভিটি ইনপ্রুভ ও ম্যানেজ করার জন্য একটি কার্যকর ফ্রেমওয়ার্ক দিয়েছেন। আর কেলারস এই ফ্রেমওয়ার্ক টিকে “প্রোডাক্টিভিটি’র চার প্রতিবন্ধকতা” বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি প্রোডাক্টিভিটি’র চার প্রতিবন্ধকতা ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন মূলত মানুষ দৈনন্দিন জীবনে প্রোডাক্টিভ থাকার পাশাপাশি তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো’র প্রতি মনোনিবেশ থাকতে যে সমস্ত কমন বাঁধা’র সম্মুখীন হয় সেগুলো কে হাইলাইট করতে। যখন মানুষ তাদের লক্ষ্য অর্জনে নিরলস পরিশ্রম করে এবং কাজ গুলোকে বেটার উপায়ে করার প্রায়োরাটাইজ করে তখন তাদের এই চার ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। আর এই চার প্রতিবন্ধকতা হল-
১। “না” বলতে না পারা
২। বিশৃঙ্খলার ভয়
৩। খারাপ হেলথ হ্যাবিট’স এবং
৪। লক্ষ্য সাপোর্টিভ পরিবেশের অভাব
মূল কারণ হল যে আমরা বেশিরভাগ সময়ই আমাদের প্রোডাক্টিভিটি লেভেল ইম্প্রুভ করার জন্য বিভিন্ন ধরণের স্ট্রাটেজি, টুল’স, ও বিভিন্ন উপায়ে সমাধান খোঁজা শুরু করি কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জ গুলো যে আমাদের মধ্যেই বিরাজমান তা ভুলে যায়। আবার যদি নিজেরা নিজেদের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত কিন্তু আমরা অনেক সময় অক্ষম সে সমস্ত চ্যালেঞ্জ ও হ্যাবিট’স থেকে নিজেদের কে মুক্ত করতে। তাই কখনো কখনো আমাদের প্রোডাক্টিভিটি লেভেল ইম্প্রুভ করার জন্য অনেক টুল, স্ট্রাটেজি ইত্যাদি এডাপ্ট করার চেয়ে কিছু কিছু জিনিস সাবস্ট্রাক্ট করাটাও অনেক উপকারী হয়ে উঠে।
কীভাবে কয়েকটি কৌশলের মাধ্যমে এই চার প্রতিবন্ধকতা গুলো কে কাটিয়ে উঠা যায় নিম্নে তার বিস্তারিত আলোচনা করা হল-
০১। “না” বলতে না পারা
এই প্রতিবন্ধকতা টি সেসব মানুষকে রিপ্রেজেন্ট করে যারা নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে সব ধরণের ডিস্ট্রাকশন, এডিশনাল কমিটমেন্ট’স, অথবা যে সমস্ত কাজ তাদের লক্ষ্যের সাথে এলাইন না সেগুলো কে না বলতে পারেনা।
আপনি যখন সব কিছুকেই হ্যাঁ বলেন, তখন আপনি নিজেকে সব কিছুতেই এঙ্গেজ করে ফেলছেন যার ফলে মূল কাজগুলোতে আপনার ফোকাস কমে যায়। তাই অপ্রয়োজনীয় কাজ বা রিকোয়েস্ট গুলো কে না বলতে শেখা, আর যে কাজ গুলো আসলেই গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়গুলোতে ফোকাস করার জন্য অত্যন্ত জরুরী।
এই “না” বলতে না পারার মূল্য অনেক। নিচে “না” বলতে না পারা বলতে কি বোঝায় এবং এর সাথে আমাদের প্রোডাক্টিভিটি ও ওয়েলবিং সামঞ্জস্য টা কি তা বর্ণনা করা হল-
অত্যধিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধতাঃ যখন কোন ব্যক্তি “না” বলতে না পারার কারণে স্ট্রাগল করে, তখনই তারা একসাথে অনেকগুলো কাজ গ্রহণ করে বা হাতে নেয়। যেমন- বিভিন্ন প্রোজেক্টে অংশগ্রহন, মিটিং এ যোগ দেয়া, অথবা এক্সট্রা কাজ যা আসে তাই নেয়া এই ভেবে যে তারা সবকিছুই শেষ করতে পারবে। কিন্তু সবকিছুর প্রতি সমান তালে ওভারকমিট করার ফলে তারা নিজেরা তো শেষ পর্যন্ত প্রোডাক্টিভ থাকতে পারেই না বরং নিজেদের অতি সহজেই স্ট্রেসড, বার্নআউট এর পাশাপাশি সবকাজে ইফেক্টিভনেস কমিয়ে ফেলে।
মনোযোগের অভাবঃ যখন আপনার সামনে আসা সবকিছুকেই আপনি হ্যাঁ বলেন, তখন আপনার জন্য নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং লক্ষ্যগুলো তে ফোকাস করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। তাছাড়া এসব কারণে ব্যক্তির সময় ও শক্তি ফ্রেগ্মেন্টেড হয়ে যায় এবং যে বিষয়গুলো সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে অর্থপূর্ণ ভাবে প্রোগ্রেস করা তার কাছে চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে।
নিয়ন্ত্রণের অভাবঃ এই “না” বলতে না পারার অপারগতা ব্যক্তি কে অনুভব করাতে পারে যে সে তার সময় এবং প্রায়োরিটির উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। ফলে সে রিয়েক্টিভ হয়ে ওঠে, নিজের লক্ষ্য ও প্রায়োরিটির প্রতি সক্রিয়ভাবে কাজ করার পরিবর্তে অন্য মানুষের ডিমান্ড ও অনুরোধের প্রতি সাড়া দেয়।
প্রোডাক্টিভিটি’র হ্রাসঃ ক্রমাগত অপ্রয়োজনীয় কাজগুলোকে হ্যাঁ বলা বা ডিস্ট্রাকশন’স ব্যক্তির প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দিতে পারে। একারণে ব্যক্তি নিজে বিভিন্ন ধরণের কাজের মধ্যে সুইচ করতে থাকে, কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বা কাজে তার সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে না। ফলস্বরূপ লোয়ার কোয়ালিটির কাজের পাশাপাশি কাজের প্রোগ্রেস ও অনেকখানি কমে যায়।
০২। বিশৃঙ্খলার ভয়
এটা মূলত যদি কোন ব্যক্তি তার সব কাজ একসাথে সম্পাদন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তা নিজের উপর থেকে কন্ট্রোল হারানোর পাশাপাশি সবকিছুতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবার ভয় তৈরি করে।
কিছু মানুষ বিশ্বাস করে যে দৈনন্দিন জীবন ও কাজের সমস্ত কিছুর উপর সম্পূর্ণ শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই তাদের মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু এই সবকিছুতে পারফেকশন খোঁজা মানুষকে আল্টিমেটলি সিদ্ধান্তহীনতা’র পাশাপাশি মেন্টালি প্যারালাইসিস ও করে ফেলে যা অনেক সময় ব্যক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কে অগ্রাধিকার দেওয়া থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি নর্মাল কাজ করাই দুরূহ করে তোলে।
তাই, জীবনে প্রোগ্রেস করার জন্য সারটেইন কিছু ক্যাওয়াস ও আনপ্রেডিক্টেবিলিটি কে এম্ব্রেচ করা অনেক সময় প্রয়োজনীয় হয়ে উঠে।
আপাত দৃষ্টিতে এই ধরণের ক্যাওয়াসের ভয় কাজ, ব্যক্তিগত জীবন, ও দৈনন্দিন রুটিন সহ বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে বিরাজমান। নিচে এই ক্যাওয়াসের ভয় কেমন হতে পারে এবং কীভাবে আমরা এর থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি তা ব্যাখ্যা করা হল-
কন্ট্রোলিং মানসিকতাঃ কিছু মানুষ জীবনের ছোট বড় সবকিছুর উপরই তাদের নিয়ন্ত্রণ চায়। তারা মনে করে যে, সবকিছু যদি কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ বা মাইক্রোম্যানেজ না করে তাহলে ক্যাওয়াস/বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। সবকিছু কে এই কন্ট্রোল করার মানসিকতা টা তাদের মাঝে একপ্রকার উদ্বেগ, চাপের সৃষ্টি করে। যেহেতু প্রতিটা ছোট থেকে ছোট কাজ তারা পরিচালনা করার চেষ্টা করে ফলে তাদের মধ্যে ফ্লেক্সিবিলিটি, এডাপ্টেবিলিটি ইত্যাদির জন্য কোন জায়গা ই থাকেনা।
পারফেকশনিজমঃ অনেক সময় বিশৃঙ্খলার ভয় পারফেকশনিজম এর সাথে সংযুক্ত। যে সব মানুষ সবকিছু তেই পারফেকশন খোঁজার চেষ্টা করে তাদের মধ্যে কোন কাজ শুরু করার আগেই অনেক বেশি ভীতি শুরু হয়ে যায় এই জন্য যে তারা সবকিছুকে তাদের কন্ট্রোলে রাখতে চাওয়ার পাশাপাশি সেসব কাজের একটা ভালো আউটকাম নিয়ে আসা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে কিনা এই ভেবে। এই ইম্পারফেকশনের ভয় বা মেন্টালিটি’র ফলে মানুষ বেশিরভাগ সময় প্রুক্রাস্টিনেশন এর শিকার হয় ও কোন কাজে উদ্যেগ নিতে মোটিভেটড ফিল করেনা।
পরিবর্তনে প্রতিরোধকঃ এই বিশৃঙ্খলা/ক্যাওয়াসের ভয় ব্যক্তির পরিবর্তনে প্রতিরোধক হিসাবেও প্রকাশ পায়। মানুষ তাদের বর্তমান যে দৈনন্দিন রুটিন এবং সিস্টেম থাকে তারা সেসবে এতটাই অভ্যস্ত যে এর চেয়েও যদি ভালো কোন রুটিন বা সিস্টেম তারা পায় এবং সেই রুটিন বা সিস্টেম তাদের জন্য সবকিছুতে ভালো ফলাফল নিয়ে আসে তারপরেও তারা তাদের বর্তমান রুটিন টাকে পরিবর্তনে মোটেও রাজি না বরং নিজেরাই একপ্রকার এই পরিবর্তনের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। কারণ তারা ভয় পায় যে, এই পরিবর্তন তাদের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম- শৃঙ্খলা কে ব্যাহত করার পাশাপাশি উল্টা সবকিছুর মধ্যেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
এই ক্যাওয়াসের ভয় কাটিয়ে উঠতে ব্যক্তির প্রয়োজন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোতে ফোকাস করে সে অনুযায়ী কাজ করে যাওয়া। আর যদি সেই লক্ষ্যগুলো তে ফোকাসড হয়ে কাজ করার সময় কিছু অনিশ্চয়তা ও ক্যাওয়াস কেও এম্ব্রেচ করা লাগে তাও শ্রেয়।
এই অভ্যাস টা করার মাধ্যমে ব্যক্তি কোন ধরণের ভয় বা কন্ট্রোলিং মানসিকতা ছাড়াই
তার লক্ষ্যগুলোর প্রতি অর্থপূর্ণ প্রোগ্রেস করার পাশাপাশি এক্সট্রাঅরডিনারি রেজাল্ট ও আশা করতে পারবে।
০৩। খারাপ স্বাস্থ্য অভ্যাস
এই প্রতিবন্ধকতা টি মূলত শারীরিক সুস্থতার যত্ন নেওয়ার গুরুত্বকে তুলে ধরে। কারণ স্বাস্থ্যকে অবহেলা করলে শারীরিক শক্তি ও কগ্নিটিভ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নিজেকে কাজে মনোনিবেশ রাখা ও প্রোডাক্টিভ থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
ভালো স্বাস্থ্য অভ্যাস যেমন- পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য বজায় রাখা, নিয়মিত শরীর চর্চা ইত্যাদি ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা ও কাজে ফোকাস বজায় রাখার ক্ষেত্রে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
তাছাড়া খারাপ স্বাস্থ্য অভ্যাসের ফলাফল কেমন হতে পারে তা নিচে আলোচনা করা হল-
অবহেলিত শরীর-স্বাস্থ্যঃ খারাপ স্বাস্থ্য অভ্যাস বলতে পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাদ্য, ব্যায়াম সহ স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয় দিকগুলো’র অবহেলাকে বোঝায়। ব্যক্তি যখন তার স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয় না তখন এটি তার জন্য বিভিন্ন ধরণের নেতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসে।
শক্তির ক্রমহ্রাসঃ খারাপ স্বাস্থ্য অভ্যাস অনেক সময়ই শরীরের শক্তির মাত্রা কমিয়ে দেয়। শারীরিক ভাবে ক্লান্ত ও অসুস্থ্য অবস্থায় কাজে ফোকাস ধরে রাখা ও প্রোডাক্টিভ থাকা চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। বেশিরভাগ সময় এই ফ্যাটিগ ই মানুষকে প্রুক্রাস্টিনেশন, কাজে কম মনোযোগী হওয়া ও প্রোডাক্টিভিটি লেভেল কমিয়ে আনতে ভূমিকা পালন করে।
কগ্নিটিভ ইম্প্যায়ারমেন্টঃ খারাপ স্বাস্থ্য অভ্যাস অনেক সময় কগ্নিটিভ ফাঙ্কশন কে ব্যাহত করে। উদাহরণস্বরূপ- অপর্যাপ্ত ঘুম যে কোন সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি মস্তিষ্কে একধরনের ফগ ও স্মৃতি সমস্যা সৃষ্টি করে। কারণ একটি সাবঅপ্টিমাল ডায়েট মানব মস্তিষ্ককে প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত করে, যা মেন্টাল ক্ল্যারিটি কে এফেক্ট করার পাশাপাশি কগ্নিটিভ কর্মক্ষমতাকে খারাপ ভাবে প্রভাবিত করে।
ইমোশনাল ওয়েলবিংঃ ফিজিক্যাল হেলথ ও ইমোশনাল ওয়েলবিং একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। স্বাস্থ্য কে অবহেলার ফলাফল স্বরূপ দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস তৈরি হয়। আর এই স্ট্রেস মানুষের মুড ও মেন্টাল হেলথ এর উপর নেগেটিভ্লি প্রভাব ফেলে। ধীরে ধীরে এই স্ট্রেস আপনার সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরণের কগ্নিটিভ ক্ষমতা কে খারাপ ভাবে প্রভাবিত করে।
হাইলি প্রোডাক্টিভ ব্যক্তির দৈনিক এনার্জি প্ল্যানঃ কেলার তার বইয়ে দুর্বল স্বাস্থ্য অভ্যাসগুলো কাটিয়ে উঠতে ও প্রতিদিন হাই এনার্জি বজায় রাখার জন্য নিম্নলিখিত কৌশলগুলো অফার করেন-
০১। স্পিরিচুয়াল এনার্জির জন্য প্রেয়ার ও মেডিটেশন করা।
০২। ফিজিক্যাল এনার্জির জন্য সঠিক খাদ্য অভ্যাস, ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো।
০৩। ইমোশনাল এনার্জির জন্য প্রিয়জনের সাথে হাসি- মজা, আলিঙ্গন করা।
০৪। মানসিক শক্তির জন্য লক্ষ্য, প্ল্যান ও ক্যালেন্ডার সেট করা।
০৫। ওয়ার্ক এনার্জির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটির জন্য টাইম ব্লক করা, ইত্যাদি।
০৪। লক্ষ্য সাপোর্টিভ পরিবেশের অভাব
এই প্রতিবন্ধকতা টি ব্যক্তির প্রোডাক্টিভি কে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে শারীরিক ও সামাজিক পরিবেশের তাৎপর্য তুলে ধরে। এখানে শারীরিক পরিবেশের মধ্যে- কর্মক্ষেত্র, ঘর-বাড়ি, ও ব্যক্তির পারিপার্শ্বিকতা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তির শারীরিক পরিবেশ যদি অগোছালো, বিশৃঙ্খল, ও অসংগঠিত বা বিভ্রান্তিতে ভর্তি হয় তাহলে এটি তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো তে মনোনিবেশ করার ক্ষেত্রে বিঘ্নতা সৃষ্টি করবে। আর একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ মানসিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করার পাশাপাশি ব্যক্তির কাজ কে প্রায়ুরাটাইজ ও ফোকাসড হয়ে কাজ করাকে ও কঠিন করে তোলে।
অন্যদিকে, সামাজিক পরিবেশ বলতে একে অপরের সাথে নিয়মিত যাদের যোগাযোগ হয়, যেমন- পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও পরিচিতজন ইত্যাদি। যদি সামাজিক পরিবেশের এইসব মানুষ সমর্থনহীন, নেতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন, এবং ক্রমাগত আপনার লক্ষ্যে কাজ করার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে তাহলে কাজে ফোকাস ও গতি বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আর আপনাকে সাপোর্ট করার পাশাপাশি আপনার লক্ষ্যগুলো কে ও বুঝে এবং সাপোর্ট করে এমন ব্যক্তিদের সাথে নিজেকে ঘিরে রাখা সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক্ষেত্রে আপনার লক্ষ্যগুলো কে সমর্থন করে ও ডিস্ট্রাকশন কমিয়ে দেয় এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে নিম্নলিখিত কৌশলগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে-
অরগানাইজ ফিজিক্যাল স্পেচঃ আপনার কর্মক্ষেত্রকে আলাদা করে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যা আপনার কাজের ফোকাস এবং প্রোডাক্টিভিটি কে আরও বেশি উৎসাহিত করে। এর জন্য অপ্রয়োজনীয় ডিস্ট্রাকশন দূর করে যাতে ইফেক্টিভ ভাবে কাজ করা যায় সে সুবিধার্থে এমন একটি ওয়ার্ক স্পেচের ব্যবস্থা করা।
সাপোর্টিভ সম্পর্ক পছন্দ করাঃ যারা আপনার লক্ষ্য বুঝে, সাপোর্ট করে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহ প্রদান করে এমন ব্যক্তিদের মাঝে নিজেকে রাখা। এক্ষেত্রে নেতিবাচক ও আনসাপোর্টিভ ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিজের এক্সপোজার সীমিত করে ফেলা অত্যন্ত জরুরী।
বাউন্ডারি সেট করাঃ প্রথমে বাউন্ডারি সেট করা তারপর সেই বাউন্ডারির সাথে সামাজিক পরিবেশের প্রায়ুরিটিসগুলোর যোগ সামঞ্জস্য বজায় রাখা। যা আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত সময় রক্ষা করতে ব্যাপক পরিমাণ সহযোগিতা করবে।
রিসোর্সেস অনুসন্ধান করাঃ আপনার লক্ষ্যগুলো ইফেক্টিভ্লি পারসু করার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রেডি রাখা। আর এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে যদি ইনভেস্ট ও করা লাগে তাহলে তা করা।
আপনার লক্ষ্যগুলোর সাথে কাজের পরিবেশ কে এলাইন করে সেই লক্ষ্য অর্জন ও নিজের প্রোডাক্টিভিটি এবং সাকসেস সর্বাধিক নিশ্চিত করণে আপনি নিজের জন্য একটি সুবিধাজনক ওয়ার্ক সেটিং তৈরি করতে পারবেন। কারণ ব্যক্তির পরিবেশ তার অভ্যাস ও আচরণ গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, এক্সট্রাঅরডিনারি রেজাল্টের জন্য ব্যক্তির পরিবেশ তার অনুকূলে থাকা অপরিহার্য।


