আমাদের আকিদা
আল্লাহ সৃষ্ট আকিদাসমূহ মুসলমানদের জীবনযাপনের নীতি নির্ধারকস্বরূপ। ব্যক্তি তার জীবনাচরণ কিভাবে করবে, কিভাবে আল্লাহ প্রদত্ত বিধানাবলি মেনে চলবে তারই প্রতিচ্ছবি এই আকিদা। তাছাড়া এই আকিদা আল্লাহ্র পূর্ণ কর্তৃত্বকে সত্যায়ন করে। তার কর্তৃত্বের কাছে মাথানত করাকে ঈমানের শর্ত ও ইখলাসের চিহ্ন হিসেবে প্রমাণ করে। আর আমাদের এই আকিদা বা বিশ্বাসমালাসমূহ নিচে তুলে ধরা হল-
১। ঈমান হলো মুখ দ্বারা ঘোষণা, অঙ্ঘ- প্রত্যঙ্ঘ দ্বারা কাজ ও অন্তর দ্বারা বিশ্বাস করার নাম। নেক আমল করলে ঈমান বাড়ে, বদ আমল করলে ঈমান কমে। একইভাবে মুমিনরাও বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে।
২। গুনাহের কাজ করলে ঈমান কমে যায়, কিন্তু এর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায় না। পক্ষান্তরে বড় কুফর (কুফ্রুল আকবর) ঈমানকে পুরোপুরি বিলীন করে দেয়।
৩। কুফর দু ধরণের। বড় টা ‘আকবর” আর ছোট টা “আসগার”। বড় কুফরের কারণে মানুষ ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় এবং কাফির বলে সাভ্যস্ত হয়। ছোট কুফরের কারণে মানুষ ইসলাম থেকে বের হয়না। তবে এটি কঠোরভাবে তিরস্কার যোগ্য গুনাহ। বড়- ছোট’র এই প্রকারভেদ শিরক (অংশীবাদ), নিফাক ( ভন্ডামি), জুলুম (অবিচার) ও ফিসক (পাপাচার) এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
৪। কোন মুসলিম যত গুনাহ ই করুক না কেন, অন্তরে সেগুলোকে হারাম বলে মানলে সে কাফির হবে না। এমনকি তাওবা না করলেও না। যেই ফাসিক (পাপাচারী) তার গুনাহের কাজগুলোকে হারাম বলে স্বীকার করে, সে কাফির (অবিশ্বাসী) নয়। এমনকি সে তাওবা ছাড়াই আমৃত্যু এসব গুনাহ করলেও নয়। আখিরাতে তার বিচারের ভার আল্লাহ্র দায়িত্বে। আল্লাহ চাইলে তাকে মাফ করে দেবেন, চাইলে তাকে সাময়িকভাবে জাহান্নামে শাস্তি দেওয়ার পর জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
৫। ঈমান ও ইসলামের কথা একসঙ্ঘে উল্লেখ করা হলে, ঈমান দিয়ে বুঝানো হয় অন্তরের বিশ্বাসকে আর ইসলাম দিয়ে বুঝানো হয় বাহ্যিক আমলকে। আর যখন এর কোন একটি উল্লেখ করা হয়, তখন এর দ্বারা সম্পূর্ণ দ্বীন ইসলামকে বুঝানো হয়।
৬। কেউ কুফরি কাজ করলেই আমরা তাকে কাফির বলে সাভ্যস্ত করি না, যদি না তা করার জন্য সুস্পষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়, কোনোরূপ ব্যাখ্যাও না থাকে। সে জেনেবুঝে ইচ্ছাকৃত ও স্বাধীনভাবে এই কাজ করেছে এমনটা প্রমাণিত হলেই কেবল জ্ঞানসম্পন্ন যোগ্য ব্যক্তিগন তাকে কাফির ঘোষণা করবেন।
৭। আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ তায়ালা হলেন স্রষ্টা, রিজিকদাতা, তিনিই জীবন দেন, তিনিই জীবন নেন, তিনিই সকল ভালো- মন্দের নিয়ন্ত্রক। তার পাশাপাশি আমরা অন্য কোন রব অনুসন্ধান করিনা। ~বলো, “আমি কি আল্লাহকে ছেড়ে অন্য রব তালাশ করবো?” (সূরা আল- আনআম, ৬ঃ১৬৪)
৮। আল্লাহ তায়ালা কোন সঙ্ঘি, সন্তান, অংশীদার ও প্রতিদ্বন্দ্বীর উরধে।
~ বলো, “আল্লাহ অদ্বিতীয়। আল্লাহ আস- সমাদ ( যিনি অমুখাপেক্ষি, তার কাউকে দরকার নেই, কিন্তু তাকে সবারই দরকার, তিনি ক্ষুধা- তৃষ্ণার উরধে।) তিনি জন্ম দেন না ও জন্ম নেননি। তার সমকক্ষ বা সমতুল্য কিছু নেই”। ( সূরা আল- ইখলাস, ১১২ঃ১-৪)
৯। আল্লাহই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য। ভয়, আশা, স্মরণ, প্রার্থনা, ভালোবাসা, আত্মসমর্পণ, সাহায্য চাওয়া, নাজাত চাওয়া, নির্ভরতা, উৎসর্গ, শপথ ও অন্য সব রকমের উপাসনা শুধু আল্লাহ্র উদ্ধেশ্যেই করতে হবে।
১০। আমরা কোন গাছ, পাথর বা কবরের কাছে দোয়া করি না। আমরা শুধু আল্লাহ্র কাছেই দোয়া করি। আল্লাহ্র নামসমুহ ও গুনাবলির মাধ্যমে, আমাদের করা নেক আমলের মাধ্যমে অথবা কোন জীবিত নেক্কার মানুষের মাধ্যমেই আমরা দোয়া করি। আমরা কোন কবর ঘিরে তাওয়াফ করিনা, মৃতের কাছে দোয়া করিনা, জিন বা মৃত কোন বুজুর্গের উদ্দেশ্যে কুরবানি করিনা। আল্লাহ ছাড়া কোন নামে শপথ করিনা। যারা এগুলুর কোনটা করে, তারা নিশ্চিতভাবেই শিরকে লিপ্ত।
১১। আল্লাহকে ছাড়া আমরা যেমন অন্য কোন রব গ্রহণ করিনা, তেমনি তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিধানদাতা বলে মানি না। তার দেওয়া বিধান ছাড়া অন্য কিছুকে আইনের উৎস হিসেবে গ্রহণ করিনা। সার্বভৌমত্ব আল্লাহ্র। তিনি বিধান দেন, আদেশ করেন, নিষেধ করেন, বিচার- ফায়সালা দেন, বৈধ- অবৈধ নির্ধারণ করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও সব বিষয়ে অবহিত।
১২। যে আল্লাহ্র বিধান ছাড়া অন্য কোন আইন প্রনয়ন করে এবং আল্লাহ্র আইনকে অন্য কিছু দিয়ে প্রতিস্তাপন করে, সে আল্লাহ্র সার্বভৌমত্তের বিরুদ্ধে গিয়েছে। সে বিচারকার্যে নিজেকে আল্লাহ্র সাথে শরীক করেছে। এভাবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে। সে যদি শাসক হয়ে থাকে, তা হলে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তাকে অপসারণ করতে হবে।
১৩। আল্লাহ তার কিতাবে এবং তার রাসুল মুহাম্মদ (সঃ) এর মাধ্যমে নিজের যে সকল নাম ও বৈশিষ্টের কথা জানিয়েছেন, আমরা সেই সবগুলুতে বিশ্বাস করি। আমরা এগুলুর কোনটিকে পরিবর্তন করিনা, অবিশ্বাস করি না, অর্থ বিকৃত করি না, এবং কোন সৃষ্টির সাথে সেগুলুর সাদৃশ্য সাব্যস্ত করি না। তার বৈশিষ্ট্যসমূহের ধরণ- প্রকৃতি সম্পর্কে জানার দাবিও আমরা করি না। কারণ “কোনকিছুই তার সাদৃশ্য নয়, তিনি সব শোনেন, সব দেখেন।” ( সূরা আশ- শুরা, ৪২ঃ১১)
১৪। আল্লাহ নিজের যেসব বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন এবং মুহাম্মদ (সঃ) দিয়ে নিজের যেসব বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন, সেই সবগুলুতে আমরা নিশ্চিত বিশ্বাস করি। যেমন- জ্ঞান, সামর্থ্য, শ্রবণ, দৃষ্টি, চেহারা, হাত ইত্যাদি। এর কোনটিই কোন সৃষ্টির সদৃশ নয়।
১৫। আমরা তা ই বলি যা আল্লাহ জানিয়েছেন, “দয়াময় আল্লাহ আরশে সমুন্নত আছেন।”( সূরা ত্বা- হা, ২০ঃ৫)। অতএব, আল্লাহ তার সৃষ্টিকুলের ঊর্ধ্বে আরশে সমুন্নত। তিনি যে আরশে সমুন্নত তা জ্ঞাত। কিন্তু তিনি কিভাবে আরশে আছেন তা অজানা। এতে বিশ্বাস করা ওয়াজিব। তিনি কিভাবে আরশে আছেন তা জিজ্ঞেস করা বিদআত।
১৬। আল্লাহ যখন যা যেভাবে করতে ইচ্ছা করেন, তখন তা সেভাবেই করেন। তিনি আনন্দিত হন, হাসেন, ভালোবাসেন, ঘৃণা করেন, সম্মতি দেন, রাগান্বিত হন। তার শানের সাথে যেভাবে সামঞ্জস্যশিল সেভাবেই হন, যেমনটা কোরআন ও হাদিসে আছে। তার কোন কাজই সৃষ্টিকূলের কারো কাজের মতো নয়। মরণশীলদের মাঝে কেউই এগুলোর ধরণ- প্রকৃতি সম্পর্কে জানে না।
১৭। কোরআন আল্লাহ্র সত্য ও অসৃষ্ট কথা, কোনভাবেই তা মানুষের কথার প্রকৃতির সদৃশ নয়। এমনভাবে তিনি একথা বলেছেন, যা সম্পর্কে আমাদের কোন জ্ঞান নেই।
১৮। আমরা ফেরেশতা ও নবী- রাসুলে বিশ্বাস করি।
১৯। আমরা রাসুলগণের উপর নাজিল হওয়া সকল কিতাবে বিশ্বাস করি এবং রাসুলগণের মাঝে কোন পার্থক্য করি না।
২০। আমরা বিশ্বাস করি যে, মুহাম্মদ ( সঃ) আল্লাহ্র বান্দা ও রাসুল। তিনি সমগ্র মানবজাতির সেরা ও নেতা। তিনি নবীগণের সীলমোহর এবং মুত্তাকিগণের নেতা।
২১। আমরা বিশ্বাস করি মুহাম্মদ (সঃ) কে বেলা জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে জেরুসালেমের মসজিদুল আকসায় নেওয়া হয়েছে এবং আসমানে যে উচ্চতায় আল্লাহ চেয়েছেন, সে উচ্চতায় তাকে নেওয়া হয়েছে।
২২। আমরা নিঃসন্দেহে বিশ্বাস করি যে, মাহদি (হিদায়াত প্রাপ্ত ইমাম বা নেতা) মুহাম্মদ (সঃ) এর উম্মাহর মধ্য থেকে শেষ জামানায় আবির্ভূত হবেন।
২৩। কোরআন ও নির্ভরযোগ্য হাদিস কিয়ামাতের যেসব লক্ষণ বর্ণিত হয়েছে, আমরা সেসবে বিশ্বাস করি। দাজ্জালের আগমন, আসমান থেকে ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিস সালাম এর অবতরণ, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয়, ভূপৃষ্ঠ থেকে বিশেষ এক প্রাণীর আবির্ভাব ইত্যাদি এসব লক্ষণের অন্তর্ভুক্ত।
২৪। মুনকার ও নাকির নামক দুজন ফেরেশতা কর্তৃক কবরের প্রশ্নোত্তরে আমরা বিশ্বাস করি। আর সেখান আমাদের রব, দ্বীন, ও নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে।
২৫। আমরা কবরের আজাবে বিশ্বাস করি। যারা এর যোগ্য, তারা তা ভোগ করবে। আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন। কবর হয় জান্নাতের একটি উদ্যান বা জাহান্নামের একটি গর্ত হবে। প্রত্যেক বান্দা ই তার প্রাপ্য যথাযথভাবে পাবে।
২৬। বিচার দিবসে কবর থেকে পুনরুত্থিত হয়ে আল্লাহ্র সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে আমরা বিশ্বাস করি। হিসাব-নিকাশ, আমলনামা পাঠ, মীযান স্থাপন, সিরাত পার হওয়া, শাস্তি ও পুরস্কারে বিশ্বাস করি।
২৭। আমরা বিশ্বাস করি নবীজি (সঃ) উম্মাতের জন্য বিচার দিবসে সুপারিশ করবেন।
২৮। আমরা হাউজে কাউসার বিশ্বাস করি। এটি একটি জল্ধার যা থেকে পানি পান করিয়ে উম্মাতের পিপাসা নিবারণ করার জন্য আল্লাহ তার রাসুলকে দান করবেন।
২৯। আমরা বিশ্বাস করি জান্নাত ও জাহান্নাম উভয় ই সত্য। এগুলু সৃষ্ট এবং কখনো বিলীন হবে না।
৩০। আমরা বিশ্বাস করি যে, জান্নাতবাসীরা তাদের দৃষ্টি সর্বব্যাপী হওয়া ছাড়াই আল্লাহকে সরাসরি দেখবে এবং এই দেখার ধরণ-প্রকৃতি অজানা। ঠিক যেভাবে আল্লাহ বলেছেন, সেভাবেই তা হবেঃ “কতক চেহারা সেদিন উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে।” (সূরা আল- কিয়ামাহ, ৭৫ঃ২২-২৩)
৩১। আমরা তাকদির ও এর ভালো-মন্দে বিশ্বাস করি। আর আল্লাহ যা বলেছেন, তা ই বলি, বল, “সবকিছুই আলাহর তরফ থেকে” (সূরা আন-নিসা, ৪ঃ৭৮)। ভালো- মন্দ সবই আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। বিশ্বজগতের সকল কিছু তার ইচ্ছায় সংঘটিত হয়।
৩২। আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাকে কুফরি ও পাপকাজ করার আদেশ দেন না। বান্দা এগুলু করলে তাতে সন্তুষ্ট হন না। “তিনি তার বান্দাদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না” (সূরা আজ- জুমার, ৩৯ঃ৭)। আর তিনি যদি কাফিরের জন্য কুফরিকেই পূর্বনির্ধারিত করে থাকেন, তা হলে তার কারণ শধু তিনিই জানেন। আল্লাহ্র ন্যায়বিচার, নিজের বিরুদ্ধে বান্দার জুলুম এবং বান্দার অতীত পাপের ফল হিসেবে। “তোমার কোন কল্যাণ হলে তা হয় আল্লাহ্র তরফ থেকে আর কোন অকল্যাণ হলে তা হয় তোমার নিজের কারণে” ( সূরা আন-নিসা, ৪ঃ৭৯)। এ সবকিছুই ঘটে আল্লাহ্র ইচ্ছে অনুসারে। আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, আর তা ই হবে। তিনি যা চান না তা হবে না। আর আল্লাহ তার কোন বান্দার প্রতি অবিচার করেন না। “নিশ্চয় আল্লাহ অণু পরিমাণ ও অবিচার করেন না” (সূরা আন-নিসা, ৪ঃ৪০)।
৩৩। আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ তার বান্দাদের কর্ম সৃষ্টি করেছেন। “আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের এবং তোমরা যা তৈরি করো সেগুলোও” (সূরা আস- সফফাত, ৩৭ঃ৯৬)। বান্দা তাদের নিজেদের কাজ বাস্তবেই সম্পন্ন করে, রুপকভাবে নয়।
৩৪। আমরা নবীজি এর সকল সাহাবীকে ভালোবাসি। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তারা শ্রেষ্ঠতম প্রজন্ম। আমরা তাদের গুণাবলী স্মরণ করি, তাদের অত্যন্ত সম্মান করি ও তাদের প্রতি হৃদ্যতা প্রদর্শন করি। তারা যা দিয়ে মতভেদ করেছেন, তা থেকে আমরা দুরে থাকি। তাদের ভালোবাসা ইসলামের অংশ, ঈমানের অংশ, ইহসানের অংশ। তাদের ঘৃণা করা কুফর ও নিফাক।
৩৫। আমরা সমগ্র উম্মাতের উপর আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাঃ) এর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করি এবং তার খিলাফতকে স্বীকার করি। একইভাবে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ), উসমান বিন আফফান (রাঃ), এবং আলী বিন আবি তালিব (রাঃ) এর খিলাফতকে স্বীকার করি। তারা হলেন খুলাফায়ে রাশেদিন ও ন্যায়পরায়ণ নেতা। এদের ব্যাপারে নবীজি (সঃ) বলেছেন, “অবশ্যই আমার সুন্নাহ ও খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাহ মেনে চলো এবং তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো” (তিরমিজিঃ ২৬৭৬, ইবনু মাজাহঃ ৪২, আহমাদঃ ১৭১৮৪)।
৩৬। আলেমগণের (এই উম্মাহর প্রথম তিন প্রজন্ম ও তাদের পদাঙ্খ অনুসরণকারী) ব্যাপারে সম্মান সহকারে কথা বলতে হবে। যে ব্যাক্তি তাদের নিন্দা করে, সে সঠিক পথে নেই।
উপরোক্ত বিষয়গুলো ই হল আমাদের আকিদা, যা আমাদের অমূল্য রতন হিসেবে রয়েছে যোগ যোগ ধরে। প্রায় চৌদ্দ শতক ধরে এগুলো অবিকৃতভাবে সংরক্ষিত আছে। কাফিরদের আক্রমণ, মুনাফিকদের ছড়ানো সন্দেহ ও পথভ্রষ্টদের বানানো বিদআতের মোকাবেলায় এগুলো কিয়ামাত পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকবে। তাছাড়া অসংখ্য মুসলিমের অবহেলা ও অবজ্ঞা সত্ত্বেও এগুলো ঠিকে আছে।
সোর্সঃ বই আল্লাহ্র সন্তুষ্টির সন্ধানে


