বুক রিভিউঃ দ্য মাউন্টেইন ইজ ইউ, ব্রিয়ানা উইস্ট
“ আপনি নিজের জীবন সম্পর্কে যা বিশ্বাস করবেন তাই আপনার জীবনে সত্য হয়ে প্রতিফলিত হবে।”
দ্য মাউন্টেন ইজ ইউ একটি সেলফ- সাবুটাজ সম্পর্কিত বই যেখানে লেখিকা সেলফ- সাবুটাজ এর পেছনের কারণগুলো সহ কি পরিস্থিতিতে এই সেলফ সাবুটাজ ঘটে, কিভাবে ঘটে এবং এই সেলফ- সাবুটাজ আচরণকে একেবারে শেষ করার জন্য কিছু কার্যকর কৌশল উপস্থাপন করেছেন।
সেলফ- সাবুটাজ মূলত আমাদের মধ্যে যে বিরোধপূর্ণ চাহিদা রয়েছে তার সহাবস্থান থেকে উদ্ভূত হয়, যা বেশিরভাগ সময় আমাদের কাছে নিরর্থক মনে হলেও এই অভ্যাস পরিবর্তন- প্রতিরোধ করতে এই সেলফ- সাবুটাজ আমাদের নেতৃত্ব দেয়। যাইহোক, আমাদের সবচেয়ে ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো থেকে মূল্যবান জ্ঞান অর্জন, নিজেদের শরীর ও মন সম্পর্কে ভালো বোঝাপড়া, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স তৈরি করা, সেলুলার স্তর থেকে অতীতের বিভিন্ন ধরণের ট্রমা কে রিলিজ করা, এবং নিজেদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা কে ধারণ করতে শেখার মাধ্যমে আমাদের নিজেদের মধ্যকার বাধাগুলো দূর করতে পারি যা আমরা নিজেরাই অবচেতন ভাবে নিজেদের জন্য তৈরি করেছি একসময়। এর ফলে নিজেদের জন্য আমরা নতুন করে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারি।
ঐতিহাসিকভাবে, মাউন্টেইন আমাদের মুখোমুখি হওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি শক্তিশালী রূপক হিসেবে কাজ করেছে, বিশেষ করে যেগুলো আমাদের কাছে অপ্রতিরোধ্য বলে মনে হয়। বইটি সাজেস্ট করে যে, আমাদের জীবনের ট্রু পটেনশিয়াল এবং পরিপূর্ণতা আমাদের মধ্যকার মাউন্টেইন ই নিহিত আছে। আর এও বলে দেয় যে, আমরাই বেশিরভাগ সময় আমাদের নিজেদের শত্রু।
যদি আমরা আমাদের জীবনের এই রূপক মাউন্টেইনগুলো কে জয় করতে চাই তাহলে সর্বপ্রথম আমাদের অবশ্যই নিজেদের ইনার সেলফ পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। যেমন- অতীতের সব ধরণের ট্রমা মোকাবেলায় ক্ষমতা অর্জন করা, নিজেদের মধ্যে রিজিলিয়েন্স বাড়ানো এবং সব ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি তে পরিবর্তন আনা। মূলত, এটা মাউন্টেইন (ব্লেইম) নিজে না, বরং আমাদের নিজেদের ভেতরকার বাধা ও সীমাবদ্ধতা।
"আপনার মাউন্টেইন আপনার মধ্যকার দুটি অংশের সমন্বয় করতে চায়, সচেতন ও অবচেতন। যার একটি অংশ আপনি কী চান সে সম্পর্কে সচেতন এবং আরেকটি অংশ যেটা আপনি এখনো নিজেকে কেন আটকে/ধরে রেখেছেন সে সম্পর্কে অবগত না।”
নিচে বই টি থেকে কিছু ইন্সাইট তুলে ধরা হয়েছে এবং আশা করছি সবার উপকারে আসবে-
সেলফ- সাবুটাজ
প্রথমেই নজর দেই সেলফ-সাবুটাজ বিষয়ের দিকে। সেলফ-সাবুটাজ হল একটি খারাপ এবং অবচেতন আচরণের প্যাটার্ন যেখানে ব্যক্তি নিজেই নিজস্ব লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সাফল্য, শান্তি- সুস্থ্যতা ইত্যাদি কে নগণ্য বা আন্ডারেস্টিমেট করে। এটি ব্যক্তিগত ডেভেলপমেন্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের সম্পর্ক, কর্মজীবন, এবং স্বাস্থ্য সহ জীবনের বিভিন্ন দিকগুলোতে প্রকাশ পেয়ে থাকে। তাই ব্যক্তিগত গ্রোথ, এবং সামনে আগানোর রাস্তায় বাধা সৃষ্টিকারী দিকগুলো বোঝার জন্য প্রথমে সেলফ সাবুটাজ সম্পর্কে বুঝা অতীব জরুরী।
নিচে সেলফ- সাবুটাজের প্রধান কিছু লক্ষণ দেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে যে কেউ বুঝতে সক্ষম হবে যে আসলে সে সেলফ- সাবুটাজ চক্রের মধ্যে আছে কিনা-
যে কোন ভালো পরিবর্তন ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে আবার একই সাথে ভয় ও রেজিস্টেন্স কে ও ট্রিগার করতে পারে। সেলফ-সাবুটাজ এই দু’য়ের মধ্যে একটা সমতা বজায় রাখার মাধ্যমে একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে, যদি এই সেলফ- সাবুটাজ সম্পর্কে আগে থেকেই আমরা পরিচিত থাকি। তবে অনেকসময় এর সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত কারণ ও জড়িত থাকে।
"আপনার পরিবর্তিত জীবন আপনাকে অনেক কিছু ছাড়তে বাধ্য করবে। যেমন-
আপনার পুরানো জীবন বা অভ্যাস, আপনার কমফোর্ট জোন এবং আপনার দিকনির্দেশনা, অন্যের কাছে পছন্দনীয় হওয়া, বোঝা-পড়া ইত্যাদি। আপনি নিজের জন্য এমন একটি নতুন কমফোর্ট জোন তৈরি করতে যাচ্ছেন যা আসলে আপনাকে শুধুই সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তখন আপনি সবার কাছে কেমলমাত্র পছন্দের মানুষ হওয়ার পরিবর্তে সবাই আপনাকে ভালোবাসবে, আপনার আগে আপনার কাজ ই কথা বলবে। তবে এসকল পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি আপনার পাস্ট সেলফ হারাবেন এবং একজন নতুন ব্যক্তিতে পরিণত হবেন যার মধ্যে আপনার আগের ছিটেফোটা অংশ ও থাকবে না।”
সবকিছুর মধ্যে পারফেক্ট হতে চাওয়া টাও অনেক সময় একজন ব্যক্তি কে সেলফ- সাবুটাজ এর দিকে নিয়ে যায়। ব্যক্তি যখন নিজের জন্য অবাস্তব হাই স্ট্যান্ডার্ড সেট করে তখন তারা প্রুক্রাস্টিনেশন শুরু করে, রিস্ক এড়িয়ে যেতে চায় অথবা নিজের জন্য সেট করা এই হাই স্ট্যান্ডার্ড পূরণ না হওয়ার কারণে বা ভয়ে অনেকখানি নিশ্চল হয়ে পড়ে।
“কোন কাজ করার আগে চিন্তা করবেন না, জাস্ট কাজটি করুন।”
সেলফ ক্রিটিসিজম ও অনেক সময় সেলফ- সাবুটাজ এ কন্ট্রিবিউট করে। ক্রমাগত সেলফ ক্রিটিসিজম ও সেলফ ইস্টিম ধ্বংস করার মাধ্যমে নিজের ব্যাপারে একটি ভবিষ্যদ্বাণী করে দেয় যে যেখানে ব্যক্তি নিজেই বিশ্বাস করে বসে থাকে তারা যেকোন কাজে ব্যর্থ হবেই। আর এমন বিশ্বাস বা আচরণ ব্যক্তির জন্য শুধু ব্যর্থতাই নিশ্চিত করে।
“আপনার সামনে একটি বাঁধা থাকার অর্থ এই নয় যে আপনি কোনভাবে ভেঙে পড়েছেন। প্রকৃতির সবকিছুই ইম্পারফেক্ট/অপূর্ণ, আর এই ইম্পারফেকশন/অপূর্ণতার কারণেই ব্যক্তির গ্রোথ সম্ভব হয়। আপনি যে একজন ইম্পারফেক্ট তা কোন ভাবেই এই নয় যে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন, এটি মূলত আপনি যে একজন মানুষ তার চিহ্ন, এবং তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এর মাধ্যমে আপনার মধ্যে এখনও যে অঢেল সম্ভাবনা রয়েছে এটি তার চিহ্ন বহন করে।”
অতিরিক্ত দুচিন্তা এবং অতীতের ভুল ত্রুটিগুলো নিয়ে পড়ে থাকা একজন ব্যক্তিকে সেলফ- সাবুটাজের দিকে পরিচালিত করে। সবকিছু রুমিনেট করার যে অভ্যাস তা যে কাউকেই ভালো কাজ করতে এবং সামনে এগিয়ে যেতে বাধা দেয়।
"সফলতা অনেকসময় আপনাকে মানুষের কাছে কম পছন্দের পাত্র করে তুলবে। আবার অন্যের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভালোবাসা - সহমর্মিতা আশা করা ও আপনাকে দুর্বল করে তুলতে পারে। তবে নিজের মধ্যে কম এক্সপেক্টেশন বিল্ড করে সবকিছুর একটা ব্যালেন্স তৈরি করতে পারলে আপনি নিজেকে এক্ষেত্রে রক্ষা করতে পারবেন। ছোট ছোট একশনের মাধ্যমে আপনি সব ধরণের সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। কিন্তু এই ছোট ছোট একশনের ক্ষেত্রে প্রুক্রাস্টিনেট করার অর্থ হল নিজেকে পুনরায় কনফুরট জোন এ নিয়ে যাওয়া যেখান থেকে ভালো কোন ফলাফল আশা করা আদৌ অসম্ভব।
অনেক সময় আপনি নিজেও জানেন না বা বুঝতে পারেন না যে আসলে আপনি সেলফ- সাবুটাজের মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছেন। অথবা আপনি সেলফ সাবুটাজ সম্পর্কে ভালো ভাবে অবগত না হওয়ার ফলে আপনি এই সেলফ সাবুটাজ টার যথার্থ সমাধান করতে পারছেন না যা আপনার জীবনে ভালো কাজ করার ক্ষেত্রে বড় ধরণের প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু এই সেলফ- সাবুটাজ কে ওভারকাম করতে পারার অর্থই শুধু নিজেকে বুঝতে পারা না, বরং এটা বুঝতে পারা যে সেলফ-সাবুটাজ আসলে কোন সমস্যা না কেবল সিম্পটমস যাকে আমরা ফিক্সড মাইন্ডসেট ও বলতে পারি।”
ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স গড়ে তোলা
মূলত ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স হল এনলাইটেন্ড ও হেলদি উপায়ে নিজের আবেগকে ভালোভাবে বুঝা, উপস্থাপন এবং পরিচালনা করার ক্ষমতা রাখা। আর সেলফ-সাবুটাজ হল লো ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এর দরুন।
ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স মূলত আত্ম-সচেতনতার মাধ্যমে তৈরি হয়। এর মাধ্যমে নিজ আবেগ- ইমোশন কে চেনা- জানা বা বুঝতে পারার সাথে সাথে ব্যক্তির চিন্তা- ভাবনার ট্রিগারসমুহ, আচার- ব্যবহার তার প্রতিটা কাজেই তা প্রকাশ পায়। আত্মসচেতনতা আপনার ব্যবহারের বিভিন্ন ধরণের যে প্যাটার্ন যেমন- সেলফ- সাবুটাজ, তা সহজেই আইডেন্টিফাই করতে সাহায্য করবে সেই সাথে সব ধরণের নেগেটিভ থটস কে বুঝা ও পরিবর্তন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
“সেলফ- সাবুটাজ এমন একটি স্বভাব যা আমাদের সব ধরণের ব্যর্থতার পেইন থেকে প্রুটেক্ট করার সাথে সাথে আমাদের সাফল্যের আনন্দকে ও অনুভব করতে বাধা দেয়। এটি এমন একটি ডিফেন্স ম্যাকানিজম যা আমাদের কে একটা কম্ফুরট জোন এর মধ্যে আবদ্ধ করে রাখে, যদিও এই কনফুরট জোন আমাদের জন্য মোটেও ফলপ্রসূ না। সেলফ- সাবুটাজের মূল সমস্যা হল এটা বেশিরভাগ সময়ই অবচেতন। আর আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত ক্রসরোডে গিয়ে না ঠেকি ততোক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই সেলফ- সাবুটাজ সম্পর্কে রিয়ালাইজেশন হয়না। আমরা যে কোন ভালো কাজ ট্রাই করার আগেই নিজেদের কে অনেক ধরণের এক্সিউজ দেখায়, প্রুক্রাস্টিনেট করি এবং ফলাফল হিসেবে সেসব কাজে ফেইল করি। কিন্তু সত্য কথা হল ব্যর্থতা কখনোই কোন কিছুর শেষ হতে পারেনা। বরং এটা ব্যক্তির লারনিং ও গ্রোথ এর ক্ষেত্রে এক বিরাট অপরচুনিটি হিসেবে কাজ করে।”
অতীতকে রিলিজ করা
সারাজীবন ধরে আমরা নিয়মিতভাবে একটা সেলফ রিইনভেনশন এর মধ্য দিয়ে যেতে থাকি।
আমাদের অতীত বিভিন্ন ধরণের আবেগ, স্মৃতি এবং অভিজ্ঞতার একটি জটিল টেপেস্ট্রি যার রূপে আমাদের বর্তমান রূপান্নিত হয় এবং যার ফলে আমাদের ভবিষ্যতও বিশেষ ভাবে প্রভাবিত হয়। অতীত আমাদের যেমন অনেক মূল্যবান শিক্ষার মাধ্যম হতে পারে তেমনি এটা আমাদের অপ্রীতিকর বাধা, পার্সোনাল গ্রোথ এর পাশাপাশি সামনে আগাতে ও রুখে দাঁড়ায়।
অতীত আমাদের বিভিন্ন ভাবে ডাউন করতে পারে। অতীতের অমীমাংসিত ট্রমা, বিভিন্ন অতীত কাজ-কর্ম- সিদ্ধান্তের জন্য অনুশোচনা, ক্ষোভ, এমনকি আমাদের অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা নিজেদের জন্য যে পরিচয় তৈরি করেছি বা করছি সবকিছুতেই এই অতীত স্মৃতিগুলো মেনিফেস্টড হয়। আর এই ইমোশনাল অ্যাঙ্করগুলো অবিশ্বাস্যভাবে হেভি হয়, যা আমাদের বর্তমান ও সামনে থাকা সম্ভাবনাগুলো কে পুরোপুরি আলিঙ্গন করতে বাধা দেয়।
“নিজেকে পরিবর্তন- পরিশোধনের মাধ্যমে আপনি যে ব্যক্তি টি হতে চান তার রূপে নিজেকে দেখা খুব কঠিন যদি আপনি এমন একটি পরিবেশে বসবাস করেন যেখানে পরিবেশ টিই আপনাকে ফিল করাবে যে আপনি আদৌ সেই ব্যক্তি নন।”
পাস্ট রিলিজ করা মোটেও সহজ বা তাত্ক্ষণিক কোন প্রসেস না, বরং কোন কিছুকে প্রুফাউন্ডলি লিবারেট করা। যখনই আপনি অতীতের অনুশোচনা ও অভিযোগ গুলো কে লেট গো করে দেন তখনই আপনার পার্সোনাল গ্রোথের ধার উন্মোচিত হয়, নতুন নতুন সুযোগ- সুবিধা আপনার সামনে আসে এবং নিজেই একটা আনন্দময় জীবনের জন্য জায়গা তৈরি করেন। এভাবে আপনি অতীতের বার্ডেন ও লিমিটেশন ছাড়াই আপনার ভবিষ্যত ডিজাইন করতে সক্ষম হবেন এবং সত্যিকার অর্থে প্রেজেন্টফুল একটা জীবন যাপন করতে পারবেন।
একটি নতুন ভবিষ্যত তৈরি
জীবন চির-উন্মোচিত একটি যাত্রা। যেখানে অতীত আজকের আপনি কে একটি আকারে আক্রিত করেছে, কিন্তু যেরকম জীবন আপনি নিজের জন্য ডিসায়ার করেন সম্পূর্ণরূপে সেরকম একটি নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা পুরোপুরিই আপনার হাতে। নিজের জন্য একটি নতুন ভবিষ্যত তৈরি করা অনেক আনন্দদায়ক ও তার সাথে একটা ক্ষমতায়নকারী প্রচেষ্টা যা আপনাকে একটি পরিপূর্ণ সুখী- সুন্দর- উদ্দেশ্য বহুল পথ ডিজাইন করতে সাহায্য করে।
"অনেকে বলে, অপরকে ভালোবাসতে পারার আগে প্রথমে নিজেকে ভালোবাসতে হবে, কিন্তু সত্যি বলতে আপনি যদি অপরকে ভালোবাসতে শিখেন তবে আপনি নিজেকে ভালোবাসতে শিখবেন।"
আর কিভাবে এরকম একটি রূপান্তরমূলক যাত্রা শুরু করা যায় তা নিচে দেওয়া হয়েছে -
ভিসন ক্ল্যারিফাই করাঃ একটি নতুন ভবিষ্যৎ এর দিকে পা বাড়ানোর আগে সেই ভবিষ্যত কেমন হবে সে সম্পর্কে সবার একটি পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। নিজেকে পরীক্ষা- নিরীক্ষা, এবং সবকিছু রিফ্লেক্টশনের জন্য কিছু সময় নিন। আপনার ডিপেস্ট ডিসায়ার, প্যাশন, এবং ভ্যালু’স গুলো কি? নিজের জন্য আপনি কি ধরনের জীবন কল্পনা করেন? এক্ষেত্রে আপনি আপনার গোল’স এবংএস্পিরেশন’স গুলো স্পেসিফিক করার চেষ্টা করবেন।
স্মার্ট লক্ষ্য সেট করাঃ আপনি যদি একটি ভিশন সেট করে থাকেন তাহলে সেটিকে কার্যযোগ্য ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্যে ভাগ করুন। স্মার্ট (SMART) ক্রাইটেরিয়া টাকে ইউটিলাইজ করতে পারেন এক্ষেত্রে। যেমন- নির্দিষ্ট (Specific), পরিমাপযোগ্য (Measurable), অর্জনযোগ্য (Achievable), প্রাসঙ্গিক (Relevant), এবং সময়সীমাবদ্ধ (Time-bound)। আর আপনার সেট করা এই স্মার্ট লক্ষ্যগুলো আপনাকে অনুসরণ করার জন্য একটি রোডম্যাপ দিবে যা আপনার জার্নি কে আরও বেশি ম্যানেজেবল এবং কম ওভারওয়েলমিং করে তুলবে।
রিজিলিয়েন্স তৈরি করাঃ সম্পূর্ণ নতুন একটি জীবন নিজের জন্য গড়ে তুলতে হলে আপনাকে প্রথমে কনফুরট জোন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে সেই সাথে বিভিন্ন ধরণের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এ সমস্ত প্রতিকূলতা কে নেভিগেট করার জন্য নিজের মধ্যে রিজিলিয়েন্স তৈরি করা অত্যন্ত জরুরী। এক্ষেত্রে সবার মনে রাখা উচিত যে, সকল কাজকর্মে যে সমস্ত সেটব্যাক থাকে তা কোনভাবেই ফেইলিয়র প্রকাশ করেনা বরং ব্যক্তির পার্সোনাল গ্রোথের জন্য একেকটা অপরচুনিটি।
প্ল্যান তৈরি করা বাঞ্ছনীয়ঃ যেকোন লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি সুন্দর- সুগঠিত প্ল্যান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এর জন্য আপনার লক্ষ্যগুলোকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে সেগুলো এচিভ করার জন্য একটি টাইমলাইন তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে যারা অলরেডি সাকসেস হয়েছে সেরকম সিনিয়র/মেন্টরদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।
আত্ম-সহানুভূতিশীলতা প্রাক্টিস করাঃ জীবনের সকল পর্যায়ে নিজের প্রতি সদয় হন। আত্ম-সহানুভূতি বলতে সাধারণত আমরা আমাদের একজন ফ্রেন্ড এর প্রতি যে পরিমাণ বুঝা- পড়া ও এম্প্যাথি শো করি সেই সমপরিমাণ এম্প্যাথি ও বুঝা-পড়া নিজের জন্য ও শো করা কে বোঝায়। যে কোন সেটব্যাকের জন্য নিজেকে ক্ষমা করুন, আর যতই ছোট হোক না কেন আপনার অর্জনগুলো সেলিব্রেট করুন।
চ্যাঞ্জ কে এম্ব্রেচ করাঃ একটি নতুন ভবিষ্যৎ গড়তে হলে আপনাকে অবশ্যই যেকোন ধরণের পরিবর্তনকে এম্ব্রেচ করতে হবে, যা অনেক এক্সসাইটিং এর পাশাপাশি ভীতিকর ও হতে পারে। কিন্তু বুঝতে হবে এই যে চ্যাঞ্জ এটা মূলত পার্সোনাল গ্রোথ ও এডাপ্টেবিলিটি’র ই ন্যাচারাল পার্ট। সুতরাং আমাদের সবার এই চ্যাঞ্জ টাকে পজিটিভ ট্রান্সফরমেশন এর সুযোগ- সুবিধা হিসেবে এম্ব্রেচ করা উচিত।
নিজের জন্য নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা একটি গতিশীল এবং রিওয়্যারডিং প্রক্রিয়া। এটি আপনার জীবনের দায়িত্ব নেওয়া থেকে শুরু করে, নিজস্ব লক্ষ্য সেট করা এবং ভবিষ্যতে আপনি যে ব্যক্তিটি হতে চান তার মতো করে ক্রমাগত বিকশিত হওয়াকে বোঝায়।
সেলফ- সাবুটাজ থেকে সেলফ- মাস্টারি
যদিও সেলফ- সাবুটাজ থেকে সেলফ মাস্টারি এচিভ করা একটা এক্সট্রাওরডিনারি ট্রান্সফরমেশন মনে হতে পারে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে আপনাকে বুঝতে হবে যে কেবল আপনিই আপনাকে সেলফ- সাবুটাজের মাধ্যমে সবকিছু থেকে পিছিয়ে রাখার জন্য দায়ী ছিলেন। আর যেহেতু ব্যক্তি নিজেই নিজেকে সাবুটাজ করতে পারে সেক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই যথেষ্ট ক্যাপেবল এর থেকে উত্তরণ পাওয়ার মাধ্যমে নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। এই জার্নি তে আপনার শুধু প্রয়োজন নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করা, নিজের গ্রোথ এবং এম্পাওয়ারিং মানসিকতা থাকা। আত্ম-সচেতনতা গড়ে তোলে, নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে, ক্লিয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং ব্যক্তিগত গ্রোথে ক্রমাগত কাজ করে, আপনি সেলফ- সাবুটাজ এর বেড়াজাল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবেন এবং আপনার সম্পূর্ণ সম্ভাবনাকে আনলক করতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে, দ্য মাউন্টেন ইজ ইউ একটি পাওয়াফুল এওয়াকেনিং হিসাবে জীবনের বিভিন্ন ধরণের চ্যালেঞ্জসমূহ কে নেভিগেট করার জন্য একটি দরকারী গাইডলাইন অফার করে। বইটি আপনাকে আপনার নিজের সম্পর্কে ধারণ করা পূর্বকল্পিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে উৎসাহিত করে। কারণ আপনি আপনার মধ্যকার ইনার হিরোকে পারপাস্ফুলি ট্যাপ করার মাধ্যমে নিজের জন্য নতুন একটি গল্প তৈরি করতে সক্ষম হন, যার ফলে অনেকদিন ধরে আপনার মধ্যকার লালিত স্বপ্ন, ডিসায়ার, এবং এস্পিরেশন’স ইত্যাদির সাথে একটি অনুরণিত নতুন জীবন তৈরি হয়। ব্রায়ানা বইটিতে কিছু প্রাক্টিক্যাল কৌশল, ইনার ট্রান্সফরমেশন, এবং ইন্সাইট’স প্রদান করেন যার সাহায্যে ব্যক্তি নিজের অথেনটিক সেলফ কে পুনরায় আবিষ্কার করতে সক্ষম হবে।
ব্যক্তিগত মতামত
এক কথায় বইটি অনেক সিম্পল কিন্তু মানুষের জীবনের অসাধারণ কিছু রিয়েলিটি তুলে ধরেছে যেসব বিষয় সম্পর্কে আমরা নিজেরাই অনেক সময় মাইন্ডফুল না। আর নিজেদের সম্পর্কে মাইন্ডফুল হওয়া কতটুকু জরুরী হয়তো এই বই না পড়লে তার গভীরতা টের ই পেতাম না। ওভারঅল, সবার জন্য হাইলি রেক্মেন্ডেড একটি বই।


