বুক রিভিউঃ দ্য অ্যালকেমিস্ট, পাওলো কোয়েলহু
কিছু বই পড়ার জন্য আমাদের হাতে সময়ের চেয়ে বেশি দরকার হয় একটি নির্দিষ্ট বয়স। কারণ একই বই কুড়ি বছর বয়সে একরকম কথা বলে, ত্রিশে এসে আরেকরকম। আর জীবনের কোনো এক ক্লান্ত বিকেলে হঠাৎ তার একটি বাক্য আমাদের ভেতরের এমন একটি দরজা খুলে দেয় যার অস্তিত্বের কথাই আমরা ভুলে গিয়েছিলাম। পাওলো কোয়েলহোর দ্য অ্যালকেমিস্ট এমনই একটি বই যা পড়তে পড়তে মনে হয় কেউ আমাদের খুব পরিচিত অথচ বহুদিন ভুলে থাকা একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছে- তুমি আসলে কী চাও?
প্রশ্নটি সহজ। কিন্তু উত্তরটি না। কারণ আমরা বড় হতে হতে শিখে যাই কীভাবে অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে হয়। পরিবার কী চায়, সমাজ কী চায়, নিরাপদ জীবন কেমন হওয়া উচিত, কোন স্বপ্নকে বাস্তবসম্মত বলা যায়, আর কোন স্বপ্নকে বোকামি। একসময় আমরা নিজের ইচ্ছার সঙ্গে অন্যের ইচ্ছার পার্থক্যটুকুও ভুলে যাই, গুলিয়ে ফেলি।
সান্তিয়াগো সেই ভুলে যাওয়া জায়গা থেকে যাত্রা শুরু করে। সে একজন আন্দালুসিয়ান রাখাল। তার জীবন খুব বড় না কিন্তু পৃথিবী ছোটও না। সে ভেড়ার পাল নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। তার কাছে আছে পরিচিত পথ, পরিচিত মাঠ, পরিচিত আকাশ। কিন্তু তার ভেতরে আছে অচেনা পৃথিবীর প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ। তার বাবা চান সে পুরোহিত হোক। কিন্তু সান্তিয়াগো পৃথিবী দেখতে চায়। অজানা শহরে যেতে চায়। নতুন মানুষের সঙ্গে দেখা করতে চায়। সে এমন এক জীবন চায় যার মানচিত্র এখনো তার হাতে নেই।
এখানেই সান্তিয়াগো আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ প্রত্যেক মানুষের জীবনে এমন একটি মুহূর্ত আসে যখন তাকে বেছে নিতে হয়- পরিচিত নিরাপত্তা নাকি অজানা সম্ভাবনা?
একটি পাখি যদি খাঁচার দরজা খোলা থাকা সত্ত্বেও উড়ে না যায় তবে সে কি সত্যিই স্বাধীন?
আমাদের জীবনও অনেক সময় এমন। দরজা খোলা থাকে কিন্তু আমরা বের হই না। কারণ বাইরে ঝড় থাকতে পারে। ব্যর্থতা থাকতে পারে। প্রত্যাখ্যান থাকতে পারে। এমনও হতে পারে আমরা বহুদিন ধরে যে স্বপ্নকে ভালোবেসেছি তার কাছে পৌঁছে বুঝলাম সে স্বপ্ন আসলে আমাদের জন্য ছিল না।
তবু সান্তিয়াগো যাত্রা শুরু করে। তার যাত্রার সূচনা হয় এক স্বপ্ন দিয়ে। সে স্বপ্নে একটি গুপ্তধনের কথা দেখে। একজন জিপসি নারী তাকে স্বপ্নটির অর্থ ব্যাখ্যা করতে বলে। পরে এক রহস্যময় বৃদ্ধ রাজা তাকে বোঝান যে প্রত্যেক মানুষের জীবনে একটি “Personal Legend” আছে, অর্থাৎ নিজের জীবনের সেই বিশেষ আহ্বান যা পূরণ করার জন্য তার জন্ম। এই ধারণাটিই দ্য অ্যালকেমিস্ট-এর হৃদয়।
সান্তিয়াগো তার যাত্রায় একের পর এক বাধার মুখোমুখি হয়। সে প্রতারিত হয়। তার টাকা হারায়। অপরিচিত দেশে একা হয়ে যায়। ভাষা জানে না। তাকে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়।
আমরা প্রায়ই মনে করি কোনো স্বপ্নের পথে হাঁটলে সবকিছু ধীরে ধীরে সুন্দর হয়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তব জীবন তেমন না। অনেক সময় প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার পরেই সবকিছু আরও কঠিন হয়ে যায়। চাকরি ছাড়লে হয়তো সঙ্গে সঙ্গে নতুন সুযোগ আসবে না। লেখক হতে চাইলে হয়তো প্রথম লেখা কেউ পড়বে না। নিজের জন্য একটি নতুন জীবন তৈরি করতে চাইলে হয়তো পরিচিত মানুষগুলোই বলবে, “তোমার দ্বারা এটা হবে না।” তখন মনে হবে হয়তো ভুল করেছিলাম।
সান্তিয়াগোর ক্ষেত্রেও এমন হয়। কিন্তু তার যাত্রা আমাদের শেখায় কোনো স্বপ্নের পথে প্রথম বাধা আসা মানেই সেই স্বপ্ন ভুল না। কখনো কখনো প্রথম বাধাটিই পরীক্ষা করে তুমি সত্যিই সেই স্বপ্ন চাও নাকি শুধু তার সুন্দর ফলাফলটুকু চাও। উভয়ের মধ্যে গভীর পার্থক্য আছে। আমরা অনেকেই সফল হতে চাই। কিন্তু ব্যর্থতার অংশটুকু চাই না। আমরা ভালোবাসা চাই। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির মধ্য দিয়ে যেতে চাই না। আমরা স্বাধীনতা চাই। কিন্তু তার সঙ্গে আসা অনিশ্চয়তা চাই না। আমরা নতুন জীবন চাই। কিন্তু পুরোনো জীবনের পরিচিত আরাম ছাড়তে চাই না। তবে কথা হচ্ছে বীজ যদি নিজেই মাটির অন্ধকার ছেড়ে ওপরে উঠতে না চায় তবে সে কি করে গাছ হবে।
সান্তিয়াগোর যাত্রায় মরুভূমি শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান না। মরুভূমি হলো জীবনের সেই সময় যখন চারদিকে তাকিয়ে কিছুই দেখা যায় না। কোনো নিশ্চয়তা নেই। কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই। শুধু দীর্ঘ পথ।
আমাদের প্রত্যেকের জীবনে এমন মরুভূমি আসে। সেটা কখনো একটি ব্যর্থতা হয়ে। কখনো একটি হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক হয়ে। কখনো এমন একটা সময় যখন নিজের ঘরেই নিজেকে অপরিচিত মনে হয়। কখনো আমরা অনেক মানুষের মধ্যে থেকেও বুঝতে পারি যে আমাদের ভেতরের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার মতো কেউ নেই। সেই সময়ে আমরা ভাবি, “আমি কি ভুল পথে আছি?” দ্য অ্যালকেমিস্ট এই প্রশ্নের সহজ উত্তর দেয় না। বরং বলে কখনো কখনো পথের অর্থ পথের শেষে পৌঁছানোর মধ্যে না। পথ চলতে চলতে তুমি যে মানুষে পরিণত হও, সেটিও তোমার প্রাপ্তির অংশ।
সান্তিয়াগো যদি প্রথমেই গুপ্তধন পেয়ে যেত তাহলে সে সান্তিয়াগো থাকতো না। তার যাত্রা তাকে শেখায় মানুষের ভাষা, নীরবতার ভাষা, প্রকৃতির ভাষা, ভালোবাসার ভাষা। সে বুঝতে শেখে যে পৃথিবীকে শুধু চোখ দিয়ে দেখা যায় না। কখনো কখনো মনোযোগ দিয়েও শুনতে হয়।
এরপর অন্যতম সুন্দর চরিত্র ফাতিমা আসে। সান্তিয়াগো ফাতিমাকে ভালোবাসে। কিন্তু তার সামনে তখন একটি কঠিন প্রশ্ন- সে কি ভালোবাসার জন্য নিজের স্বপ্ন ছেড়ে দেবে? এই প্রশ্নটি বইটির সবচেয়ে মানবিক মুহূর্তগুলোর একটি। কারণ ভালোবাসা কখনো কখনো আমাদের নিরাপত্তা দেয়, আবার কখনো আমাদের ভয় দেখায়। আমরা ভাবি যদি আমি চলে যাই তবে যাকে ভালোবাসি তাকে হারাবো।
কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসা কি এমন যা তোমাকে নিজের স্বপ্নের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়?
ফাতিমা সান্তিয়াগোকে আটকে রাখে না। সে জানে ভালোবাসা মানে কাউকে নিজের কাছে বন্দি করে রাখা না। ভালোবাসা কখনো কখনো এমন একটি আলো যার কাছে ফিরে আসার জন্য মানুষ দূরতম মরুভূমিতেও যেতে পারে। এখানে একটি সুন্দর উপলব্ধি আছে- যে ভালোবাসা তোমার সত্যিকারের সত্তাকে ছোট করে দেয় তা ভালোবাসা হলেও তোমার পূর্ণতা না।
সান্তিয়াগোর জীবনে আলকেমিস্টের আবির্ভাবও তাই গুরুত্বপূর্ণ। আলকেমিস্ট শুধু একজন জ্ঞানী মানুষ নন। তিনি এমন এক শিক্ষক যিনি সান্তিয়াগোকে তার নিজের ভেতরের জ্ঞান চিনতে সাহায্য করেন। প্রকৃত শিক্ষক হয়তো আমাদের হাতে উত্তর তুলে দেন না। তিনি শুধু এমন প্রশ্ন করেন যার উত্তর আমাদের নিজেদের খুঁজে নিতে হয়। একজন ভালো শিক্ষক অনেকটা প্রদীপের মতো। প্রদীপ তোমার হয়ে পথ হাঁটে না। শুধু অন্ধকারে তোমার নিজের পায়ের সামনে কয়েক হাত পথ দেখায়। তারপর তোমাকেই হাঁটতে হয়।
সান্তিয়াগোর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয় যখন সে বুঝতে শুরু করে যে পৃথিবীকে বুঝতে হলে শুধু বাইরের ঘটনাগুলো দেখলেই হবে না। নিজের হৃদয়ের ভাষাও শুনতে হবে। কিন্তু নিজের হৃদয়ের কথা শোনা সহজ না। কারণ হৃদয় সবসময় শান্তভাবে কথা বলে না। কখনো সে ভয় দেখায়। কখনো পুরোনো ক্ষত মনে করিয়ে দেয়। কখনো বলে, “যেও না।” কখনো বলে, “আর একবার চেষ্টা করো।”
আমরা অনেক সময় হৃদয়ের কথা শুনতে ভয় পাই কারণ হৃদয় এমন সত্য বলে যা মাথা বহুদিন ধরে এড়িয়ে যাচ্ছে। তুমি হয়তো জানো তুমি যে কাজে আছো সেখানে তুমি সুখী নও। তুমি হয়তো জানো যে সম্পর্কটি ধরে রাখার জন্য তুমি প্রতিদিন নিজেকে হারিয়ে ফেলছো। তুমি হয়তো জানো তোমার একটি স্বপ্ন আছে কিন্তু সেটি শুরু করার জন্য তুমি “সঠিক সময়”-এর অপেক্ষায় আছো। কিন্তু সঠিক সময় অনেক সময় আসে না। সময়কে তৈরি করতে হয়। এই জায়গায় দ্য অ্যালকেমিস্ট বিশেষভাবে শক্তিশালী। কারণ এটি আমাদের বলে না যে জীবন সহজ। এটি বলে জীবন অনিশ্চিত। কিন্তু অনিশ্চয়তা মানেই অর্থহীনতা না।
সান্তিয়াগোর যাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে কোনো স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় শত্রু সবসময় ব্যর্থতা না। অনেক সময় সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অভ্যাস। আমরা যে জীবনকে ভালোবাসি না সেটির সঙ্গেও অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারি। একটি ছোট ঘরেও মানুষ দীর্ঘদিন বাস করলে একসময় মনে হয় এই ঘরই তার পুরো পৃথিবী। জানালার বাইরে যে আকাশ আছে সেটি তখন কেবল একটি দৃশ্য। যতক্ষণ না সে দরজা খুলে বাইরে বের হয়। কিন্তু বাইরে বের হওয়ার পর সে বুঝতে পারে পৃথিবী তার ধারণার চেয়ে অনেক বড়। সান্তিয়াগোর গল্পে গুপ্তধন একটি বাস্তব সম্পদ হলেও পাঠকের কাছে এর অর্থ আরও গভীর।
আমরা সবাই কোনো না কোনো গুপ্তধনের সন্ধানে আছি। কেউ ভালোবাসা খোঁজে। কেউ স্বাধীনতা। কেউ নিজের কণ্ঠ। কেউ এমন একটি জীবন যেখানে তাকে প্রতিদিন নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হবে না। কেউ শুধু চায় একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হোক “হ্যাঁ, এই জীবনটি আমার।” কিন্তু অ্যালকেমিস্ট-এর সবচেয়ে সুন্দর এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে রহস্যময় উপলব্ধি হলো- কখনো কখনো আমরা যে জিনিস খুঁজতে পৃথিবীর শেষ প্রান্তে যাই তার কিছু অংশ হয়তো আমাদের খুব কাছেই অপেক্ষা করছিল। এর অর্থ এই নয় যে আমাদের কোথাও যেতে হবে না। বরং কখনো কখনো দূরে যেতে হয় যাতে কাছে থাকা জিনিসটিকে নতুন চোখে দেখা যায়। কারণ দূরত্ব কখনো কখনো দৃষ্টিকে পরিষ্কার করে। আমাদের জীবনেও এমন হয়। আমরা বাড়ি ছাড়ি, মানুষ ছাড়ি, পরিচিত পৃথিবী ছাড়ি। তারপর একদিন ফিরে তাকিয়ে বুঝি আমরা আসলে শুধু কোনো জায়গা থেকে দূরে যাইনি। আমরা নিজেদের পুরোনো সংস্করণ থেকেও দূরে এসেছি।
সান্তিয়াগোর যাত্রা তাই একটি গুপ্তধনের গল্পের চেয়ে বেশি কিছু। এটি এমন এক মানুষের গল্প, যে নিজের জীবনের অর্থ খুঁজতে বের হয়েছিল এবং পথে পথে নিজেকে খুঁজে পেয়েছিল।
স্বপ্নের কথা বলা সহজ। কিন্তু বাস্তব জীবনের ভারের মধ্যে স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন।
তাই দ্য অ্যালকেমিস্টকে আমি এমন কোনো বই হিসেবে দেখি না যা আমাদের বলে, “শুধু স্বপ্ন দেখো, সবকিছু পেয়ে যাবে।” বরং এটি এমন একটি বই যা বলে- স্বপ্ন দেখো কিন্তু স্বপ্নের মূল্য বুঝে। ভালোবাসো কিন্তু নিজেকে হারিয়ে না। ভয় পেয়ো কিন্তু ভয়ের কাছে নিজের পুরো জীবন সমর্পণ করো না। পথ হারিয়ে ফেললে থেমে যেও কিন্তু মনে রেখো থেমে যাওয়া আর শেষ হয়ে যাওয়া এক জিনিস না। আর সবচেয়ে বড় কথা নিজের হৃদয়ের ভাষা শুনতে শেখো।
কারণ জীবনের কিছু উত্তর বই আমাদের দিতে পারে না। কিছু উত্তর কোনো শিক্ষক দিতে পারেন না। কিছু উত্তর ভালোবাসার মানুষও দিতে পারে না। কিছু উত্তর আমাদের নিজেদেরই খুঁজে নিতে হয়। সান্তিয়াগোর মতো। একটি দীর্ঘ পথ পেরিয়ে। কখনো মরুভূমির ভেতর দিয়ে। কখনো নিজের ভয়ের মধ্য দিয়ে। কখনো এমন এক অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে যেখানে মনে হয় সামনে আর কোনো আলো নেই। তারপর একদিন হয়তো আমরা বুঝব গুপ্তধনটি কেবল কোথাও লুকিয়ে ছিল না। আমাদের ভেতরেও তার একটি অংশ ছিল। আমরা শুধু তাকে চিনতে শেখার জন্য পৃথিবী ঘুরে এসেছি। আর হয়তো এই কারণেই দ্য অ্যালকেমিস্ট এতো এতো মানুষের কাছে ফিরে ফিরে আসে।
কারণ আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সময়ে সান্তিয়াগো হয়ে যাই। আমাদের হাতে থাকে একটি অসম্পূর্ণ মানচিত্র। হৃদয়ের ভেতরে থাকে একটি অদ্ভুত আকাঙ্ক্ষা। আর সামনে থাকে এমন একটি পথ যার শেষ আমরা জানি না। তবুও কোথা থেকে একটি ক্ষীণ কণ্ঠ বলে- যাও। হয়তো তুমি ব্যর্থ হবে। হয়তো পথ হারাবে। হয়তো তোমাকে আবার শুরু করতে হবে। তবু যাও। কারণ কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস ব্যর্থ হওয়া না। সবচেয়ে বড় আফসোস হলো যে দরজাটি একদিন খোলা ছিল তার সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও আমরা বাইরে বের হইনি। দ্য অ্যালকেমিস্ট সেই দরজার কথা মনে করিয়ে দেয়। আর ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করে- তোমার নিজের গুপ্তধন কোথায়?


